ছিলেন বিয়ের আসরে, গেলেন জেল হাজতে
ফরিদপুর প্রতিনিধি :: বাল্য বিয়ে থামছে না, এখনো কোথাও না কোথাও সংঘটিত হচ্ছে বাল্য বিয়ে। সরকারি হুকুম তামিল না করে মেয়ের বাবা জোরপূর্বক বা সামাজিক জোরজবরদস্তি করে ছোট্ট বালিকাকে টেনে নিতে হয় সংসারের ঘানি। তবে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নে বাল্যবিয়ে করতে গিয়ে জেলে গেছেন রহমান শেখের ছেলে মো. শিপন শেখ। বাল্য বিয়ে করতে আসার অপরাধে বিয়ের আসর থেকে বরকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
বিয়েবাড়িতে বর যখন খাওয়ায় ব্যস্ত তখনই হাজির হন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। পরে তাকে ২০ দিন কারাদণ্ড প্রদান করে জেল হাজতে পাঠানো হয়।
বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের কলাডাঙ্গী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, কলাডাঙ্গী গ্রামের দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে একই উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চরঠেঙ্গামারী গ্রামের রহমান শেখের ছেলে মো. শিপন শেখের (২৮) বিয়ের দিন ধার্য ছিল বৃহস্পতিবার।
বাল্যবিয়ে হচ্ছে এমন সংবাদে বিকেল ৫টার দিকে কলাডাঙ্গী গ্রামে হাজির হন ইউএনও পূরবী গোলদার। তখন বর ও বরযাত্রীরা খাওয়া-দাওয়া করছিলেন। এমন সময় বর শিপনকে আটক করেন ইউএনও। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ২০ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। এদিকে কনের বাবার কাছ থেকে মুচলেকা নেয়া হয়।
সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পূরবী গোলদার বলেন, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন-২০১৭ সালের ৭ এর ১ ধারায় ২০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয় বর শিপনকে। এছাড়া মেয়েকে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেবে না মর্মে মুচলেকা নেয়া হয়।


