জটে নাকাল রাজধানীবাসীর জীবন

জটে নাকাল রাজধানীবাসীর জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক ● ঘর থেকে বের হলেই সঙ্গী হচ্ছে দুর্ভোগ। খানাখন্দে ভরা গলিপথে পানি। রাজধানীর বেশিরভাগ প্রধান সড়কগুলোর ভাঙা-চোরা অংশে তীব্র যানজট। ভ্যাপসা গরমে নিঃশ্বাস নেয়া দায়। গণপরিবহনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সঙ্কট ভাড়ায় চালিত পরিবহনের। রিকশাচালকদের খামখেয়ালি তো আছেই। সব মিলিয়ে রাজধানীসহ নগরীর জীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে। এর মাত্রাও বাড়ছে দিন দিন। গতকাল বুধবার যানজট ছিল চোখে পড়ার মত। নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে ভোগান্তিতে পড়েছেন অনেকেই। শহরের অধিকাংশ সড়কেই চলছে সংস্কার কাজ। সেইসঙ্গে ট্রাফিক পুলিশের তৎপরতায় মেলেনি সুফল। ফলে যানজটের অস্বস্তি ছিল সকাল থেকে রাত অবধি। নগরীর অধিকাংশ সড়কে জ্যামে পড়ে যানবাহনগুলো অপেক্ষা করতে থাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।

গণপরিবহনগুলো পাঁচ মিনিটের পথ এক ঘণ্টায়ও যেতে পারছিল না। এদিকে, রাজধানীতে গত রাতের বৃষ্টিপাতে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে গতকাল সকালে দীর্ঘ যানজটের কবলে পড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় নগরবাসীকে। আষাঢ়ের শেষ সময়ে এসে সারাদেশেই মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। তবে অন্যসব অঞ্চলের চেয়ে এবার রাজধানী ঢাকায় বেশি বৃষ্টি হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে বুধবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত ঢাকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১০৩ মিলিমিটার। বৃষ্টিপাতের এই পরিমাণ অন্য সব বিভাগীয় শহরের চেয়ে বেশি। মোহাম্মদপুর থেকে বুধবার সকালে কারওয়ান বাজার যাচ্ছিলেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী মিলন হোসেন। তিনি বললেন, সকাল সাড়ে সাতটায় মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসে ওঠেন কারওয়ান বাজারে যাওয়ার জন্য। পৌনে দুই ঘণ্টায় তিনি জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে পৌঁছান। সংসদ ভবনের সামন থেকে ফার্মগেট মোড় পর্যন্ত জ্যাম থাকায় সেখান থেকে তিনি হেঁটেই কারওয়ান বাজারের দিকে রওনা দেন। তিনি বলেন, বাস থেকে নেমে হেঁটে যাওয়ারও উপায় নেই। কারণ, রাস্তার দুই পাশে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কারওয়ান বাজারে কাজী নজরুল অ্যাভিনিউয়ে পয়োনিষ্কাশন লাইনের কাজ চলতে থাকায় সেখানে প্রায় হাঁটুপানি জমে যায়। সেখানে ফুটপাত ভেঙে ফেলা হয়েছে।

ইট-বালু রাখা হয়েছে রাস্তার ওপর। তাই হেঁটে চলাচলকারী লোকজনকে বাধ্য হয়ে মাঝপথ দিয়ে যেতে হচ্ছে। এ কারণে সড়কের ওই জায়গায় যানবাহনের গতি কমে যাচ্ছে। সৃষ্টি হচ্ছে ব্যাপক যানজট। প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানান, মিরপুর, কাজীপাড়া, মালিবাগ মোড়, মগবাজার নয়াটোলা ও মৌচাক এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কারওয়ান বাজারে টিসিবি কার্যালয়ের সামনে প্রায় হাঁটুপানি পেরিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছেন লোকজন। দক্ষিণ বনশ্রীর একজন বাসিন্দা জানান, ওই এলাকার ১০ তলা মার্কেট এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে সকালে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। দক্ষিণ বনশ্রীর সি ব্লকেও জলাবদ্ধতার কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় লোকজন। তেজকুনিপাড়ায় প্রায় কোমরসমান পানি জমেছে। ওই এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম এ কথা জানিয়ে বললেন, তিনি বহু কষ্টে বিকল্প পথ ব্যবহার করে তার অফিসে পৌঁছান। মালিবাগে প্রায় কোমরসমান পানি থাকায় সেখানকার একটি বেসরকারি স্কুল আজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। অভিভাবক নাসরিন জাহান জানান, স্কুল কর্তৃপক্ষ মুঠোফোনে অভিভাবকদের কাছে বার্তা পাঠিয়ে স্কুল বন্ধের কথা জানিয়েছে।

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী মেহেদি হাসান বললেন, গতকাল যানজটের কারণে টেকনিক্যাল মোড় থেকে কারওয়ান বাজার পৌঁছাতে তাঁর প্রায় আড়াই ঘণ্টা সময় লেগেছে। স্বাভাবিক সময় তাঁর সময় লাগে ২০ মিনিটের মতো। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, ঢাকার পরে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হচ্ছে রাজশাহীতে। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহীতে ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহে ২৮, সিলেটে ১৯, চট্টগ্রামে ৫, খুলনায় ৬, বরিশালে ৬ ও রংপুরে ৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির এই ধারা আরও অন্তত তিন দিন থাকতে পারে। যাত্রীদের নিরাপদ গমনাগমনের দায়িত্ব সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। তারা যদি উদাসীন থাকে, তবে যাত্রীরা দুর্ভোগ ও হয়রানির শিকার হবেন এটাই স্বাভাবিক।

আমরা লক্ষ্য করি, যানজটের কারণ হিসেবে প্রশাসন চালকদের বেপরোয়া গাড়ি চালানোকে দায়ী করলেও তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে বরাবরই ব্যর্থ হয়েছে। যাত্রী হয়রানির দায়ভার সরকার ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের ওপর বর্তায়। মহাসড়কের এ সঙ্কট নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি ও সময়োপযোগী পরিকল্পনা গ্রহণের বিকল্প নেই।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *