পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : সেনাবাহিনীর অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত ও গৃহবন্দি মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সুচি জান্তা আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। নিজের জীবনে এই প্রথম কোনো সামরিক আদালতে সাক্ষ্য দিলেন তিনি।
এক প্রতিবেদনে বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, মঙ্গলবার মিয়ানমারের রাজধানী নেইপিদোতে জান্তা গঠিত বিশেষ আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন সুচি।
চলতি বছর ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিয়ানমারে ক্ষমতাসীন গণতান্ত্রিক সরকারকে হটিয়ে জাতীয় ক্ষমতা দখল করে দেশটির সামরিক বাহিনী। বন্দি করা হয় গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সুচি ও তার দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্র্যাসির (এনএলডি) বিভিন্ন স্তরের কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে।
অভ্যুত্থানের পর গৃহবন্দি সুচির বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা করে ক্ষমতাসীন সামরিক সরকার। মামলাগুলো যেসব অভিযোগে করা হয়েছে, সেসব হলো- রাষ্ট্রের গোপন তথ্য পাচার, নিয়মবহির্ভূতভাবে ওয়াকি টকি রাখা ও ব্যবহার, ক্ষমতায় থাকাকালে ঘুষ গ্রহণ, নিজের দাতব্যসংস্থার নামে অবৈধভাবে ভূমি অধিগ্রহণ ও করোনা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ায় গাফিলতি।
গত জুন থেকে রাজধানী নেইপিদোর বিশেষ সামরিক আদালতে এসব মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার সুচি তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত কোনো একটি মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন বলে এএফপিকে নিশ্চিত করেছে আদালত সূত্র। তবে কোন মামলায় তিনি সাক্ষ্য দিয়েছেন, তা আদালত লিখিত আকারে প্রকাশের আগ পর্যন্ত জানা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে সূত্র।
আগামী সপ্তাহে আদালত এই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ বিষয়ক বিবরণী লিখিত আকারে প্রকাশ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সুচির বিচার চলাকালে আদালতে সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতি আগেই নিষিদ্ধ করেছিল জান্তা। সম্প্রতি সুচির পক্ষের আইনজীবীদেরও সংবাদমাধ্যমে কথা বলার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।


