জাহাজে বিস্ফোরণে দগ্ধ আরো পাঁচজনের মৃত্যু

জাহাজে বিস্ফোরণে দগ্ধ আরো পাঁচজনের মৃত্যু

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে তেলবাহী জাহাজে বিস্ফোরণে দগ্ধ আরো পাঁচজন মারা গেলেন। তাঁরা ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিত্সাধীন ছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার তাঁদের মৃত্যু হয়। ওই ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন এস এম আইউব হোসেন এ কথা জানান।

যাঁরা মারা গেছেন তাঁরা হলেন আশিকুর রহমান (২৫), মেহেদী হাসান (২৮), শহিদ তালুকদার (৪০), মো. পিরন (৪০) ও মো. রনি (২৭)। এর আগে ওই বিস্ফোরণের সময় মারা গিয়েছিলেন জাহাজের সুকানি কামরুল ইসলাম। এ নিয়ে এ ঘটনায় ছয়জনের মৃত্যু হলো।

বার্ন ইউনিট সূত্র জানিয়েছে, জাহাজে বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে মোট সাতজন হাসপাতালে এসেছিলেন। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁদের মধ্যে ইমাম উদ্দিন ও রুবেল নামের দুজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। চিকিত্সাধীন বাকি পাঁচজন গতকাল ভোর থেকে সন্ধ্যার মধ্যে মারা যান।

গত শুক্রবার ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীর পোনাবালিয়া খেয়াঘাট এলাকায় নোঙর করে রাখা ‘সাগর নন্দিনী-৩’ নামের একটি তেলবাহী জাহাজে বিস্ফোরণের পর আগুন লাগে। এতে জাহাজের তলা ফেটে ভেতরে পানি ঢুকে যায়। আহত শ্রমিকরা জানান, ঢাকা থেকে জ্বালানি তেল নিয়ে জাহাজটি ঝালকাঠির ডিপোতে নোঙর করে রাখা হয়েছিল। জাহাজ থেকে তেল খালাসের প্রস্তুতির সময় পাম্পকক্ষে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণ থেকে আগুন লেগে ছড়িয়ে পড়ে।

এতে সুকানি মো. কামরুল ইসলাম (৩৫) ঘটনাস্থলেই মারা যান। খবর পেয়ে ঝালকাঠি ও বরিশাল থেকে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে তাঁদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে তাঁদের ঢাকায় বার্ন ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়।

দুর্ঘটনার দিন ঝালকাঠি পদ্মা অয়েল কম্পানির কর্মী আব্দুস সালাম জানিয়েছিলেন, জাহাজটি প্রায় ১৫ লাখ লিটার পেট্রল, অকটেন ও ডিজেল নিয়ে ঝালকাঠির পদ্মা অয়েল কম্পানির সামনে সুগন্ধা নদীতে নোঙর করা ছিল। পেট্রল ও অকটেন খালাস শেষে ডিজেল খালাসের প্রস্তুতি চলছিল। জাহাজটিতে নাবিকসহ মোট ১৩ জন কর্মী ছিলেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *