জোয়ারে কক্সবাজারের ৪৫টি গ্রাম প্লাবিত

জোয়ারে কক্সবাজারের ৪৫টি গ্রাম প্লাবিত

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাব ও পূর্ণিমার জোয়ারের কারণে কক্সবাজার জেলার উপকূলীয় এলাকায় ৪৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। আরও পাঁচ শতাধিক বাড়িঘর বিধ্বস্ত ও নষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে কুতুবদিয়া ও সেন্টমার্টিন্স দ্বীপে ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়েছে।

বুধবার (২৬ মে) কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ও পূর্ণিমা জোয়ারের প্রভাবে কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলে স্বাভাবিকের চেয়ে চার থেকে পাঁচ ফুট উচ্চতায় পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব বিকাল থেকে কেটে যাবে।

জেলার কুতুবদিয়া উপজেলা, সেন্টমার্টিন্স দ্বীপ, কক্সবাজার শহরতলি, সদর উপজেলার গোমাতলী ও ইসলামপুর, পেকুয়া উপজেলার মগনামা, মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী ও ধলঘাটা এলাকায় সর্বোচ্চ পাঁচ ফুট উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়ে সেখানকার ৪৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরের জামান জানান, ইয়াসের প্রভাব ও পূর্ণিমার জোয়ারে কুতুবদিয়া দ্বীপের কয়েকটি ইউনিয়নের ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বাড়িঘরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দ্বীপের বেড়িবাঁধ ভেঙে জোয়ারের পানি ঢুকেছে। বেড়িবাঁধের বাইরে থাকা বাড়িঘর জলোচ্ছ্বাসে বিধ্বস্ত হয়েছে। দ্বীপের আট হাজার মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।

সেন্টমার্টিন্স দ্বীপের চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ জানিয়েছেন, জোয়ারের তাণ্ডবে দ্বীপের জেটিঘাট বিধ্বস্ত হয়েছে। জোয়ারের পানি উপচে পড়ে দ্বীপের ৫০টি বাড়িঘর বিধ্বস্ত ও নষ্ট হয়েছে। জোয়ারের আঘাতে দ্বীপের চারিদিকে ব্যাপক ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। সেন্টমার্টিন্স দ্বীপের ১৫টি পর্যটন রিসোর্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আরও পড়ুন: দেশে করোনায় আরও ১৭ মৃত্যু, শনাক্ত ১৪৯৭

এদিকে কক্সবাজার শহরতলীর সমিতিপাড়া সৈকতের ডায়াবেটিক পয়েন্টসহ ১০টি গ্রাম জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। সদর উপজেলার গোমাতলী ইসলামপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আমিন আল পারভেজ জানান, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। তবে পূর্ণিমা থাকায় জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কক্সবাজারের উপকূল এলাকা পানিতে প্লাবিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *