জয়পুরহাটে আগুনে পুড়ে একই পরিবারের নিহত ৩, দগ্ধ ৫

জয়পুরহাটে আগুনে পুড়ে একই পরিবারের নিহত ৩, দগ্ধ ৫

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : জয়পুরহাট শহরে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লেগেছে একটি বাড়িতে। এতে সারা বাড়ীতে আগুন ছড়িয়ে পড়লে আগুনে পুড়ে একই পরিবারের গৃহকর্ত, মা ও মেয়েসহ তিন জন নিহত হয়েছেন। এসময় দগ্ধ হয়েছেন অন্তত পাঁচজন।

০৬ নভেম্বর বুধবার রাতে জয়পুরহাট পৌর এলাকার শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজের অদূরে আরামনগর এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- গৃহকর্তা আবদুল মোমিন (৩৮), তার মা মোমেনা বেগম (৬২) ও মেয়ে বৃষ্টি (১৪)।
দগ্ধরা হলেন- আবদুল মোমিনের বাবা দুলাল হোসেন (৭১), দুই যমজ মেয়ে হাসি ও খুশি (১২) এবং ছোট ছেলে নূর (৬)।

জয়পুরহাট ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ জানান, রাত ৯টার দিকে জয়পুরহাট শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজের অদূরে ব্যবসায়ী আবদুল মোমিনের বাড়িতে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে হঠাৎ আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে আগুনে পুড়ে আবদুল মোমিন, তার মা মোমেনা বেগম ও মেয়ে বৃষ্টি ঘটনাস্থলেই মারা যান। এসময় বাড়ীর আরও ৫ সদস্য দগ্ধ হন। তাদের শরীরের অনেক অংশই পুড়ে গেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় জয়পুরহাট জেলা হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানকার কর্তব্যরত ডাক্তাররা উন্নত চিকিৎসার জন্য পরে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করেন।

ঘটনার তদন্ত করে জয়পুরহাট থানার ওসি- মমিনুল হক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা তাদের উদ্ধার কাজ সম্পন্ন করেছে। কিন্ত ঘটনাস্থলে আগেই একই পরিবারের তিনজন মারা যান। দগ্ধ পাঁচ সদস্যকে প্রথমে জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়।

জয়পুরহাট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর ইন্সপেক্টর সিরাজুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে এ অগিকান্ডের সূত্রপাত বলে ধারণা করা হলেও এটি বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে ঘটেছে।

জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. সাইফুল ইসলাম জানান, দগ্ধতের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। তাদের শরীরের ৭০-৭৫ শতাংশই দগ্ধ হয়েছে।

এ অগ্নিকাণ্ডে আব্দুল মোমিনের টিন শেডের পাকা বাড়ির চারটি ঘর ও তার বিভিন্ন আবাবাবপত্র পুড়ে গেছে। এছাড়াও আরো বেশ কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও জানা যায়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *