‘জয় শ্রীরাম এখন গণধোলাই থেকে বাঁচার মন্ত্র’

‘জয় শ্রীরাম এখন গণধোলাই থেকে বাঁচার মন্ত্র’

জয় শ্রীরাম এখন গণধোলাই থেকে বাঁচার মন্ত্র : অমর্ত্য সেন

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ ড. অমর্ত্য সেন ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানের তীব্র বিরোধিতা করে বলেছেন, গণধোলাই থেকে বাঁচার দুআ বা মন্ত্রে পরিণত হয়েছে জয় শ্রীরাম।

শুক্রবার সন্ধ্যেয় যাদব বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কলকাতা আফটার ইনডিপেনডেন্সি’ ‘স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে তার স্মৃতিতে কলকাতা’ শীর্ষক এ পার্সোন্যাল মিরর শীর্ষক আলোচনা চক্রে এ কথা বলেন এ নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ।

এ দিন তিনি বলেন, স্বাধীনতার পরে কলকাতায় অস্থিরতা ছিল। সেই সময় উচ্চ শ্রেণীদের আধিপত্য ছিল। ৭০ দশকে অবশ্য সেই আধিপত্য একটু কমে। এখন আবার উচ্চবর্ণদের আধিপত্য প্রকট হয়েছে। সেই আধিপত্যকে সামনে এনে হিন্দু-মুসলিম সম্পর্কের বিভাজন তৈরির চেষ্টা চলছে।

রাম নবমী প্রসঙ্গে বাংলা ভাষায় তিনি বলেন, ইদানিং দেশে অস্থিরতা তৈরিতে নানা ইস্যুকে সামনে আনা হচ্ছে। তার মধ্যে অন্যতম জয় শ্রীরাম। তবে এটা মানুষ মারার স্লোগান ছাড়া কিছুই নয়।

বাংলার সংস্কূতি উৎসব বাদ দিয়ে এখন আবার নতুন করে চাপানো হচ্ছে ” রাম নবমী”। রাম নবমী এখন শুনছি নাকি কলকাতায় খুব হচ্ছে। এটা আগে হয়েছে বলে শুনিনি। মা দুর্গার সঙ্গে রাম নবমীর তুলনা করা যেতে পারে না।

এর আগে কখনও জোর গলায় পার্থক্য করার চেষ্টা হয়নি। একটি বইয়ের দূষ্টান্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, অভিজাত সম্প্রদায় এক সময় গ্রামগঞ্জের খেটে খাওয়া মানুষের উপর প্রভাব বিস্তার করতে চেয়েছিল। এখন আবার সেই চেষ্টা করা হচ্ছে। এ দেশে এখন উন্নয়নকে হাতিয়ার করে এগিয়ে যাওয়া নয়, সব শ্রেণীর মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরির চেষ্টা চলছে। এ জন্যই বিগত পাঁচ বছরে অর্থনৈতিক ভাবে পিছিয়ে গিয়েছে এ দেশ। ভারতের তুলনায় গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে বলে তিনি এ দিন জানান।

এদিকে নিজেদের আত্মরক্ষার পথ বেছে নেওয়ার জন্য জমিয়তে উলামা হিন্দের জেনারেল সেক্রেটারী ও সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী রহ.-এর সাহেবজাদা মুসলমানদের ত্রাণকর্তা সাইয়্যিদ মাওলানা মাহমুদ মাদানী মুসলমানদেরকে এক বিশেষ বার্তা প্রদান করেছেন। তিনি বলেছেন, ভারতে সাধারণ হিন্দু উন্মত্ত, উশৃঙ্খল জনতার হাতে আক্রমণে পড়ে গেলে প্রথমে সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করুন। পালাতে না পারলে প্রতিবাদি হোন। প্রতিরোধ গড়ে তুলুন।

এদিকে জমিয়তে উলামা হিন্দের রাজ্য সভাপতি মাওলানা সিদ্দীকুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে মাদরাসাগুলো ভূমিকা ছিল। দেশপ্রেম সহিংসতা রক্ষার কথা মাদরাসাগুলোতে এখনও বলা হয়। তবে বর্তমানে ভারতে বিভিন্নভাবে মাদরাসাগুলোকে টার্গেট করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *