টপ মোমেন্ট অব দ্য লাইফ
মুহাম্মাদ আইয়ুব ❑ কেউ যদি আমাকে জিজ্ঞেস করে তোমার জীবনের সেরা মুহূর্ত কোনটা? হাফেজ যেদিন হয়েছ, মাওলানার পাগড়ি মাথায় যেদিন লেগেছে, বাসর রাত, সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার সুসংবাদ, ছাপার অক্ষরে যেদিন তুমি তোমার লেখা পড়েছ, কোনটি? এর কোনটিই না! শুনো তাহলে আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ মুহূর্তের কথা। দেওবন্দ অভিমুখে যখন আমার ট্রেন ছুটছিল সেই ট্রেনে বৃদ্ধ এক হিন্দু সিট না পেয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। আমি আমার সিটে তাকে বসতে দিয়েছিলাম। সেদিন তার চোখের আনন্দাশ্রু আমার চোখ দিয়ে জল বের করে দিয়েছিল। সেই মোমেন্টটাই ছিল আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ মুহূর্ত। সেদিন আমার বিবেক আমাকে ভৎসনা করার আগেই আমি তাকে সিটে বসাতে পেরেছিলাম। বৃদ্ধের চোখের পানি আমাকে পরবর্তীতে জাত-পাত, দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সৃষ্টিজীবের জন্য সামান্য হলেও কিছু করার প্রেরণা দিয়েছিল।
বুখারি মুসলিমের হাদিস। হযরত জাবের রাঃ হতে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সা. বলেন, ‘যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি অনুগ্রহ করে না,আল্লাহ তার প্রতি অনুগ্রহ করেন না’ মুসলিম মাত্রই এই হাদিস জানে। তারপরও কাজের লোক ধমক খায়, দারোয়ান, স্টাফ, কর্মচারী গালি খায়, ড্রাইভার, রিক্সাওয়ালা চড় খায়, কন্ডাক্টর ঘুষি খায়, ঘরের বুয়া লাত্থি খায়, কুকুর বিড়াল তো কথাই নাই সবসময় দৌড়ের ওপরে থাকে। কেন? আমরা না নবীজীর আদরের উম্মত! আশেকে রাসুল!! নবীর ওয়ারিশ! মানবতা আর সৃষ্টি জীবের প্রতি দয়া না থাকলে কোন পরিচয়ে কাজ হবে না।
ডান্ডার বাড়িতে ঠান্ডা করে দেওয়া হবে। রমজানে আল্লাহ পাক দুনিয়াবাসীর উপর রহমতের বারি বর্ষণ করেন। সেই বারি আমাকে ধুইয়ে মুছে পাক ছাপ করে দিবে যদি আমি আমার সাধ্যনুযায়ী অপরের উপর রহম করি।মানবতার জন্য,সৃষ্টিকুলের জন্য কিছু করি। আর যদি স্বার্থপর, কন্জুস কিপ্টুস হই তাহলে রহমতের প্রবল বর্ষণে কপালে ছাই ও জুটবে না।
কেন পরোপকারী হব?
১। হযরত আবু হুরাইরা রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন – এক মুসলমান অপর মুসলমানের দীনি ভাই। কোনো মুসলমান অপর মুসলমানের উপর অবিচার করবে না,তাকে অপদস্থ করবে না এবং অবজ্ঞা করবে না।আল্লাহ ভীতি এখানে! এ কথা বলে রাসুল (সা.) নিজের বক্ষের দিকে তিনবার ইঙ্গিত করে বললেন, একজন মানুষের জন্য এতটুকু অন্যায়ই যথেষ্ট যে,সে নিজের মুসলমান ভাইকে হেয় জ্ঞান করবে। মুসলমানের জন্য অপর মুসলমানের রক্ত, ধনসম্পদ ও মানসম্মান হারাম। (অর্থাৎ অপর মুসলমান ভাইয়ের ধন- সম্পদ, মান- ইজ্জত নষ্ট করা হারাম) [মুসলিম শরিফ/ মেশকাত শরিফ, হাদিস নং ৪৭৪২]
২। বুখারি ও মুসলিম শরিফের হাদিস। হযরত আনাস রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন- সেই সত্তার শপথ! যার হাতে আমার প্রাণ, বান্দা ততক্ষণ পর্যন্ত পরিপূর্ণ ঈমানদার হবে না, যতক্ষণ না সে নিজের মুসলমান ভাইদের জন্য সেই জিনিস পছন্দ করবে, যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে। [মেশকাত শরিফ, হাদিস নং ৪৭৪৪]
৩| হযরত আবু হুরাইরা রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, আল্লাহর কসম! সে ঈমানদার হবে না, আল্লাহর কসম! সে ঈমানদার হবে না, আল্লাহর কসম! সে ঈমানদার হবে না। জিজ্ঞেস করা হলো,ইয়া রাসুলুল্লাহ! সে কে? রাসুল সা. বললেন, যার প্রতিবেশী তার অনিষ্টতা থেকে নিরাপদ নয়। [বুখারি ও মুসলিম শরিফ / মেশকাত শরিফ হাদিস নং ৪৭৪৫]
প্রিয় পাঠক! উল্লেখিত হাদিসের আলোকে এবার ডিসিশন আমাদের। রহমতের দিনে ঊর্ধ্বগামী হব নাকি নিম্নগামী।
লেখক: শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক


