পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের বিরতিহীন ট্রেন সুবর্ণ এক্সপ্রেসে ভ্রমণ করছিলেন মৃত্যুঞ্জয় জুয়েল। টিকিট কেটেছিলেন অনলাইনে। কিন্তু ট্রেনে ওঠার আগে ভুলঃবশত প্রিন্টেড টিকিট ফেলে আসেন। যে কারণে টিকিট কাটার পরেও তাকে বাড়তি ৭৬০ টাকা জরিমানা দিতে হয়েছে! রেলের আইন অনুযায়ী টিকিট প্রদর্শনে ব্যর্থ হলে প্রারম্ভিক স্টেশন থেকে গন্তব্য স্টেশন পর্যন্ত মোট ভাড়ার দ্বিগুণ জরিমানা দিতে হয়। মানে ৩৮০ টাকার অনলাইন টিকিটসহ মোট ১১৪০ টাকা জরিমানা হয়েছে সেই যাত্রীর!
প্রশ্ন উঠেছে, রেলের টিকিট ৫০ শতাংশ যদি অনলাইনে বিক্রি করা হয়, তবে কেন টিকিট প্রিন্ট করার এই মান্ধাতা আমলের সিস্টেম এখনও চালু রয়েছে? টিকিট যদি প্রিন্টই করতে হবে, তাহলে অনলাইনে কেনার মানেটাই বা কী? আইন অনুযায়ী, যাত্রীকে অবশ্যই অনলাইনের টিকিটের পিডিএফ কপি প্রিন্ট করে ট্রেনে উঠতে হবে, অথবা কাউন্টার থেকে প্রিন্ট করাতে হবে। এক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র দেখানো বাধ্যতামূলক। কোনো যাত্রী যদি টিকিটের পিডিএফ কপি প্রিন্ট করতে ব্যর্থ হন, তাহলে টিকিট থাকার পরেও তাকে দ্বিগুণ জরিমানা করা হয়! যদিও উন্নত বিশ্বে ডিজিটাল টিকিটই গ্রহণযোগ্য।
ইতিমধ্যেই রেলের অ্যাপে কিছু ফিচার যুক্ত হয়েছে। পিডিএফ সফট কপিতে কিউআর কোড বসানো থাকে, যা স্ক্যান করলেই সেই টিকিট আসল না নকল সেটা বোঝা যায়। তাছাড়া রেলের অ্যাপে টিকিট ভেরিফাই করার নতুন সুবিধা যুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ, ফটোশপ দিয়ে টিকিট নকল করার সুযোগও শতভাগ বন্ধ হয়ে গেছে। যাত্রী নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র এবং রেলসেবা অ্যাপ দিয়ে নিজের টিকিটের বৈধতা প্রমাণ করতে পারেন। এতকিছু থাকতে কেন প্রিন্টেড টিকিট প্রদর্শন করার মান্ধাতা আমলের সেই সিস্টেম এখনো রাখা হয়েছে- এর কোনো জবাব নেই।
অ্যাপ কিংবা ওয়েবসাইট থেকে টিকিট কাটা গেলেও এখনও পর্যন্ত অনলাইনে টিকিট ফেরত দেওয়ার সুবিধা যুক্ত হয়নি। অর্থাৎ, কোনো যাত্রী অনলাইনে টিকিট কেটে ফেরত দিতে চাইলে তাকে স্টেশনে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে ফেরত দিতে হবে! টিকিট ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে যে সামান্য পরিমাণ অর্থ যাত্রীকে ফেরত দেওয়া হয়, সেটা খুব নগন্য হওয়ায় অধিকাংশ যাত্রীই টিকিট ফেরত দিতে আগ্রহী নন। এখন সময় এসেছে রেলের আইনকে ঢেলে সাজানোর। আইন যদি মানুষের উপকারে না আসে, ডিজিটালাইজেশন যদি শুধু নামে হয়, তাহলে পরিবর্তন আসবে কীভাবে?


