পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর থেকে শুরু হওয়া এই ফরম বিতরণ কার্যক্রম চলবে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দিনে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মোট সাতজন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে দু’জন সহসভাপতি (ভিপি), একজন আন্তর্জাতিক সম্পাদক এবং বাকি চারজন কেন্দ্রীয় সদস্যপদের জন্য ফরম নিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত চিফ রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে প্রার্থীরা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন।
এদিন সর্বপ্রথম ফরম সংগ্রহ করেছেন বিজয় একাত্তর হলের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সজীব হোসেন, যিনি কেন্দ্রীয় সদস্যপদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী।
জুলিয়াস সিজারের মনোনয়ন বাতিলের দাবি : ২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি) পদের জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করার পরপরই বিতর্কের মুখে পড়েছেন জুলিয়াস সিজার। অতীতে শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগে তার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হল প্রশাসন।
হল সংসদের চিফ রিটার্নিং অফিসার অধ্যাপক জাওয়াদ ইবনে ফরিদ ডাকসুর চিফ রিটার্নিং অফিসার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে এ অনুরোধ জানান। চিঠিতে বলা হয়েছে, জুলিয়াস সিজার তালুকদারের বিরুদ্ধে ‘ফ্যাসিবাদী সরকার’ ক্ষমতায় থাকাকালে শিক্ষার্থী নির্যাতনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে জুলিয়াস সিজার তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ২০১৭ সালের পর থেকে তিনি ছাত্রলীগের কোনো পদে নেই। বরং গত পাঁচ বছর ধরে তিনি ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন।
নির্বাচন কমিশনের কঠোর বার্তা : জুলিয়াস সিজারের মনোনয়ন সংগ্রহ এবং তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রসঙ্গে ডাকসুর চিফ রিটার্নিং অফিসার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, আমাদের বার্তা খুবই পরিষ্কার। নির্বাচনের আগ পর্যন্ত যার বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাকেই ভোটার তালিকা থেকে বাতিল করা হবে। যদি জুলিয়াসের বিরুদ্ধে প্রমাণ থাকে, তাহলে সেও বাদ যাবে। তিনি আরো বলেন, চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় কেউ কেউ ঘাপটি মেরে থাকতে পারে বলে আমাদের ধারণা। তাই প্রয়োজন হলে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে শেষ দিন পর্যন্ত ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেয়া হবে। মোট কথা, প্রমাণ পেলেই রক্ষা নেই।
উল্লেখ্য, ডাকসু নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৮ আগস্ট পর্যন্ত মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা যাবে। ১৯ আগস্ট ফরম জমাদানের শেষ দিন। এরপর ২৫ আগস্ট প্রত্যাহার এবং ২৬ আগস্ট প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। ভোটগ্রহণ হবে ৯ সেপ্টেম্বর। এবারই প্রথমবারের মতো হলের বাইরে ছয়টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
গত ৩০ জুলাই প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকায় ৩৯ হাজার ৯৩২ জন ভোটারের নাম ছিল। তবে সোমবার (১১ আগস্ট) প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ভোটারসংখ্যা কিছুটা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৯ হাজার ৬৩৯ জন।
ডাকসু ও হল সংসদ আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী, মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ বা জমা দেয়ার সময় কোনো প্রার্থী পাঁচজনের বেশি সমর্থক নিয়ে যেতে পারবেন না এবং কোনো ধরনের মিছিল বা শোভাযাত্রা করা যাবে না।


