পাথেয় টোয়েন্টিফোর : সংসদে পাস হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল নিয়ে সরকারের অনুরোধে মানববন্ধন কর্মসূচি স্থগিত করে মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে সম্পাদক পরিষদ।
আজ ৩০ সেপ্টেম্বর রোববার বেলা সাড়ে ১২টায় সচিবালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়। সচিবালয়ে সম্পাদক পরিষদের সঙ্গে সরকারের তিন মন্ত্রী ও একজন উপদেষ্টার বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল নিয়ে সম্পাদক পরিষদ যেসব উদ্বেগ ও দাবি জানিয়েছে, সেগুলো নিয়ে সরকার আরও আলোচনা করে তা নিরসনের উদ্যোগ নেবে। তবে নতুন করে আলোচনার জন্য মন্ত্রিসভার অনুমোদন নেওয়া হবে।
এদিকে সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনামের নেতৃত্বে রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, প্রথম আলোর মতিউর রহমান, যুগান্তরের সাইফুল ইসলাম, নিউ এইজের নুরুল কবীর, মানবজমিনের মতিউর রহমান চৌধুরী, বাংলাদেশ প্রতিদিনের নঈম নিজাম, কালের কণ্ঠের ইমদাদুল হক মিলন, ইনকিলাবের এএমএম বাহাউদ্দীন, ঢাকা ট্রিবিউনের জাফর সোবহান, বণিক বার্তার হানিফ মাহমুদসহ আরও কয়েকজন সম্পাদক এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
সম্পাদক পরিষদও আশা প্রকাশ করে বলেছে, তারাও মনে করে আলোচনার মাধ্যমে একটা গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
সাংবাদিকসহ বিভিন্ন মহলের আপত্তির মুখে ১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল পাস হয়। এখন রাষ্ট্রপতি অনুমোদন দিলে এটি আইনে পরিণত হবে।
সম্পাদক পরিষদ এই আইনের অন্তত নয়টি ধারা নিয়ে আপত্তি ও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, এই আইন বাকস্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে হুমকির মুখে ফেলে দেবে। আইনটির প্রতিবাদে ২৯ সেপ্টেম্বর মানববন্ধনের কর্মসূচি দিয়েছিল। এরপর তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু আলোচনার প্রস্তাব দিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি প্রত্যাহারের অনুরোধ করেছিলেন। তাঁর ওই অনুরোধে সাড়া দিয়ে সম্পাদক পরিষদ মানববন্ধন কর্মসূচি স্থগিত করে আজকের আলোচনায় অংশ নেয়।
বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, সম্পাদক পরিষদ আইনের ৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২, ৪৩ ও ৫৩ ধারা নিয়ে আপত্তির জানিয়েছেন। যেহেতু আইনটি সংসদের পাস হয়ে গেছে, তাই এখন সম্পাদক পরিষদের আপত্তি ও বক্তব্যগুলোকে মন্ত্রিসভায় তুলে ধরা হবে। আগামী ৩ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার বৈঠকে হয়তো তুলে ধরা হবে না। কারণ অনেকগুলো অ্যাজেন্ডা আছে। পরের সভায় তুলে ধরা হবে। তারপর মন্ত্রিসভা যে কার্যপরিধি ঠিক করে দেবে, সেই অনুযায়ী আলোচনায় বসার জন্য তাঁরা সম্মত হয়েছেন।
এ সময় তথ্যমন্ত্রী বলেন, আলোচনার মাধ্যমেই নিষ্পত্তি করতে পারবেন বলে তাঁরা মনে করেন।
বৈঠক শেষে মাহফুজ আনাম বলেন, তাঁরা আলোচনার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান। তিনি বলেন, তাঁরা মনে করেন, যে আইনটি সংসদে পাস হয়েছে সেটা সংবিধানে বাক ও গণমাধ্যমের যে স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে, তার লঙ্ঘন করবে। এটি মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও গণতন্ত্রেরও পরিপন্থী। ওনারা আশ্বাস দিয়েছেন, আলোচনা করে সমঝোতায় আসতে পারবেন।


