পাথেয় ডেস্ক : কোরবানি ঈদের ছুটি শেষে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এবার ফিরতে শুরু করেছে রাজধানীবাসী। রাজধানীর সায়েদাবাদ, মহাখালী ও গাবতলী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে শুক্রবার সকাল থেকে ঢাকায় ফিরে আসা নাগরিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছুটির দিনে যানজটহীন সড়কে তাদের ঢাকায় ফেরা ছিল ‘ঝক্কিহীন’।
সরকারি অফিস-আদালতে দাপ্তরিক কার্যক্রম আগামী রোববার থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান শনিবার থেকেই খোলা শুরু করবে। পাশাপাশি ফিরতি পথের যানজট এড়াতেও অনেকে আগেভাগে রওনা হয়েছেন ঢাকার উদ্দেশ্যে।
সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে ফিরে আসা যাত্রী মো. মনির হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “শনিবার থেকে অফিস খুলে যাবে। প্রথমে ভেবেছিলাম, শুক্রবার রাতে ফিরব। কিন্তু পরে সিদ্ধান্ত পাল্টাই। আজ সকালে রাস্তা ফাঁকা পেয়ে গেলাম। পথে আসতে কোনো সমস্যা হয়নি।”
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কুটি থেকে আসা রিমি করিম বলেন, “জ্যাম ট্যাম মিলিয়ে বাড়ি যেতে এমনিতে সময় লাগে সাড়ে ৬ ঘণ্টা। ঈদের সময় লেগেছে প্রায় ১০ ঘন্টা। আজকে চলে এলাম একদম ৫ ঘণ্টায়। পথে কোথাও কোনো অসুবিধা হয়নি।”
এখনও অনেকে ঢাকা ছাড়ছেন জানিয়ে সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “আজকেও বেশ অনেক যাত্রী বাড়ির দিকে যাচ্ছেন। কাউন্টার থেকে বাস নির্ধারিত সময় পর পর ছেড়ে যাচ্ছে। সড়ক ফাঁকা থাকায় নির্বিঘ্নেই বাড়ি যেতে পারছেন তারা।
“অন্যদিকে যারা বাড়ি থেকে ফিরছেন, তারাও অনেক দ্রুত ঢাকায় ফেরত আসছেন। কোথাও বাড়তি ভাড়ার অভিযোগও নেই।”
রংপুরের ইমতিয়াজ ইমতু সাত সকালে গাবতলী বাস টার্মিনালে পৌঁছে ফেইসবুকে লিখেছেন, “রাত ১১টায় রওনা হয়ে সকাল ৮টায় গাবতলী পৌঁছে গেছি। নয় ঘণ্টায় ৩৮০ কিমি পথ পাড়ি দিয়ে এলাম।”
গাবতলীর মাজার রোডের শ্যামলী পরিবহনের কর্মকর্তা দীপক কর্মকার বলেন, “শুক্রবার সকাল থেকেই যাত্রীরা ফিরতে শুরু করেছেন। চালকরা বলছেন, সড়কে কোথাও জ্যাম নেই।
“তবে আশা করছি, শনিবার থেকে ঢাকামুখী যাত্রীর চাপ বাড়বে। শনিবার রাতে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা গাড়িগুলোকে হয়ত জ্যামে পড়তে হতে পারে।”
শুক্রবার দুপুর হতে বগুড়া, টাঙ্গাইল এবং ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে যাত্রীরা আসতে শুরু করেছেন বলে জানান মহাখালী বাস টার্মিনাল সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সহসভাপতি শওকত আলী বাবুল।
“চন্দ্রা, ভোগড়ার জ্যামের কথা চিন্তা করে অনেকে শুক্রবারই ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন। তবে শনিবার সকালে স্বস্তিটা থাকবে না। সড়কে জ্যাম পড়বে।”
লঞ্চে এখনও ঢাকা ছেড়ে যাওয়া যাত্রীদের চাপ
ঈদুল আজহার তৃতীয় দিনে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেছে, রাজধানীবাসীর অনেকেই এখনো ঢাকা ছেড়ে যাচ্ছেন।
চাঁদপুরগামী যাত্রী জিঞ্জিরা পিএম উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজির শিক্ষক রুহুল আমিন বলেন, “স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে আমি জিঞ্জিরাতেই ঈদ পালন করেছি। বাবা-মা বেঁচে নেই। এখন গ্রামে যাচ্ছি আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে।”
বিআইডব্লিউটিএ’র পরিবহন পরিদর্শক (টিআই) দীনেশ কুমার সাহা বলেন, শুক্রবার সকাল থেকে বিকাল অবধি ৩১টি লঞ্চ সদরঘাট ছেড়ে গেছে। আর ছোট-বড় মিলিয়ে অর্ধশতাধিক লঞ্চ ভিড়ে রয়েছে ঘাটে।
শনিবার থেকে ফিরতি যাত্রীর ভিড় থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, “এখনও ঢাকা ছেড়ে যাওয়া যাত্রীর সংখ্যাই বেশি সদরঘাটে। আমরা ধারণা করছি, শনিবার রাত থেকে সদরঘাটে যাত্রীর চাপ বাড়বে।”


