পাথেয় ডেস্ক : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে গ্রামবাসীর দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য (ইউপি) শাহ আলম এবং ৮ নারীসহ ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ৮ নারী হলেন ইউপি সদস্য শাহ আলমের স্ত্রী লায়লা বেগম (৩৭) মনিমালা (৩৫), লাভলী বেগম (৪০), মাফি বেগম (৪০), রাজিয়া বেগম (৫০), সাহারা বেগম (৫০), লিমা বেগম (৩০), সাফি বেগম (৩৫)। পুরুষেরা হলেন আবু বকর সিদ্দিকের ছেলে রাকিব হোসেন (২২), ফায়েজুর রহমান (৩৫), মুরাদ মিয়া (৫১), হাসিম মিয়া (৫২)।
এ দিকে গ্রেপ্তার আতঙ্কে শুক্রবার উপজেলা সদরের পাইকারি মাছের আড়ত ও খুচরা বাজারে কোনো মাছ বেচাকেনা হয়নি।
পুলিশ ও গ্রামবাসী সূত্র জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে দুই দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মফিজ উদ্দিন ভূঁইয়া, উপপরিদর্শক (এসআই) মজিবুর রহমান ও তিন কনস্টেবলসহ উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার সদর ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের ব্যাপারীপাড়া গ্রামের বর্তমান ইউপি সদস্য শাহ আলম ও সাবেক ইউপি সদস্য আবুবকর সিদ্দিকের পক্ষের লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
দুই ঘণ্টা পর পুলিশ ৮৬টি রাবার বুলেট ও ৮টি কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।
আবু বকর সিদ্দিক ও তাঁর স্ত্রী নাছিমা বানুসহ ৮৭ জন নারী-পুরুষের নাম উল্লেখ করে ৭০০ জন নারী-পুরুষের বিরুদ্ধে সরাইল থানার এসআই মজিবুর রহমান বাদী হয়ে মামলা করেন। তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশের কাজে বাধা ও আইন-শৃঙ্খলা ভঙ্গ করার অভিযোগে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে মামলা দায়ের করা হয়।
আবু বকর সিদ্দিক মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, শাহ আলমের নেতৃত্বে প্রথমে আমার পক্ষের লোকজনের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে হামলাকারীরা। এতেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
সদর ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার বলেন, মারামারি করেছে পুরুষেরা। এখন এভাবে পাইকারিভাবে পুলিশ নারীদের হয়রানি করছে তা ঠিক হয়নি। তিনি বলেন, অভিযোগ রয়েছে রাতের বেলা আসামি ধরতে গিয়ে উঠতি বয়সের মেয়েদের মারধর করেছেন পুলিশ সদস্যরা। ব্যাপারীপাড়া গ্রামটি নারী-পুরষ শূন্য হয়ে পড়েছে। যারা আছেন তারা জান-মাল নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। এখন গ্রামের নারীদের নিরাপত্তা দেবে কে?
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মফিজ উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, যারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদেরই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাতে পুলিশ সদস্যরা কোনো নারীকে আঘাত বা মারধর করেননি। যে সব নারী গ্রেপ্তার হয়েছেন তাঁদেরকে পুলিশের নারী সদস্যরাই গ্রেপ্তার করেছেন।


