তথ্য ফাঁসের পরও আয় বেড়েছে ফেসবুকের

তথ্য ফাঁসের পরও আয় বেড়েছে ফেসবুকের

পাথেয় ডেস্ক : জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ব্যবহারকারীদের তথ্য ফাঁস করে দেওয়ায় অনেকেই মুছে ফেলছেন তাদের অ্যাকাউন্ট। ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়ার ভয়ে মূলত ফেসবুক ব্যবহার বন্ধ করে দিচ্ছেন ব্যবহারকারীরা। তথ্য ফাঁসের এ ঘটনায় ১৪ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সংকটে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। যদিও এসবের মধ্যেও আয় বেড়েছে প্রতিষ্ঠানটির।
গত বুধবার ফেসবুক জানায়, গত তিন মাসে তাদের আয় ৪৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার বেশির ভাগই এসেছে বিজ্ঞাপন থেকে। প্রতিষ্ঠানটির লভ্যাংশ বেড়েছে শতকরা ৬৫ ভাগ। গত বছর এই সময়ে তাদের লভ্যাংশ ছিল ৪ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার।
জানা গেছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে ব্যবহারকারীরা ফেসবুক থেকে নিজেদের অ্যাকাউন্ট মুছে দিচ্ছেন। গত মার্চের মাঝামাঝিতে তথ্য কেলেঙ্কারির ঘটনাটি ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে, ফেসবুক অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলা ও ব্যবহার ছেড়ে দেওয়ার প্রভাব আগামী মাসগুলোয় স্পষ্ট হবে।
ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ এক বিবৃতিতে বলেন, বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও এ বছর আমাদের কমিউনিটি ও ব্যবসায়ের আওতা বেড়েছে।
ব্যবহারকারীদের তথ্য বেহাত করার ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার ১৪ ভাগ নেমে যায়। যদিও গত বুধবার এর শেয়ার বেড়েছে চার ভাগ। যুক্তরাষ্ট্রে ফেসবুক ব্যবহার কিছুটা কমে গেলেও অন্য দেশগুলোতে এর ব্যবহার বেড়েছে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান জিবিএইচ ইনসাইটের প্রধান কর্মকর্তা ড্যানিয়েল আইভেস জানান, ফেসবুকের গত তিন মাসের এই আয়টা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তবে তথ্য ফাঁসের ঘটনার পরও বিজ্ঞাপনদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এর প্রভাব লক্ষ করা যায়নি। এরই মধ্যে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার জন্য বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ছাড়া সারা বিশ্বে প্রায় ১০ হাজার কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
এর আগে ফেসবুক তাদের আট কোটি ৭০ লাখ ব্যবহারকারীর তথ্য ফাঁস হয়েছে। যার মধ্যে ১১ লাখ অ্যাকাউন্ট যুক্তরাজ্যভিত্তিক। লন্ডনের রাজনৈতিক পরামর্শবিষয়ক প্রতিষ্ঠান কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা অবৈধভাবে এসব তথ্য পেয়েছিল। ফেসবুকের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা মাইক স্ক্রফারের ব্লগে প্রকাশ করার পর নতুন এই তথ্য উঠে আসে। এর আগে তথ্য ফাঁসকারী ক্রিস্টোফার উইলি জানিয়েছিলেন, এই সংখ্যা ছিল পাঁচ কোটি। কেমব্রিজ অ্যানালিটিকার মাধ্যমে ব্যবহারকারীর তথ্য বেহাত হওয়ার ঘটনায় মার্কিন সিনেট কমিটির মুখোমুখি হন মার্ক জাকারবার্গ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *