তফসিল বৃহস্পতিবার, ২০ ডিসেম্বর নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ

তফসিল বৃহস্পতিবার, ২০ ডিসেম্বর নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সব প্রস্ততি শেষ করেছেন নির্বাচন কমিশন। প্রস্ততি সম্পন্ন তাই আনুষ্ঠানিকভাবে জতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হবে আজ ০৮ নভেম্বর বৃহস্পতিবার । ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন দুই জোটের রাজনৈতিক অনৈক্যের মধ্যেই তফসিল ঘোষণা করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এছাড়াও ঘোষণা অনুযায়ী ০৭ নভেম্বর বুধবারেই সবার সাথে সংলাপ শেষ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে বিশেষ কারণবশত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সংলাপ নিয়ে বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে।

এদিকে তফসিল ঘোষণা উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কমিশনার কে এম নূরুল হুদা (সিইসি) জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। তিনি নির্বাচন নিয়ে কমিশনের প্রস্তুতি ও সিদ্ধান্তগুলো জানাবেন। পাশাপাশি তফসিল ঘোষণা করবেন। সন্ধ্যা ৭টায় তার ওই ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে একযোগে সম্প্রচার করা হবে বলে নির্বাচন কমিশনের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। তার আগে বেলা ১১টায় কমিশন সভা বসবে। সকালের কমিশন সভায় ভোটের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হবে।

জানা গেছে, জাতির উদ্দেশে সিইসি ১০-১২ মিনিটের একটি বক্তব্য দেবেন। এর খসড়াও চূড়ান্ত করা হয়েছে। এতে সিইসি সব দলকে নির্বাচনে অংশ নেয়ার আহ্বান জানাবেন। একই সঙ্গে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে রাজনৈতিক দল, ভোটার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করবেন।

পাশাপাশি রিটার্নিং, সহকারী রিটার্নিং ও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা, গাফিলতি ও শৈথিল্য প্রদর্শন করলে নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন ১৯৯১ অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুশিয়ারি থাকবে।

সিইসি তার বক্তব্যে বর্তমান কমিশনের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সংলাপের বিষয়টি উল্লেখ করবেন। নির্বাচনী আইনকানুন ও আচরণ বিধিমালা সংশোধনে তার কমিশনের নেয়া পদক্ষেপ জাতিকে জানাবেন। সিইসির বক্তব্যে নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনা মোতায়েন, সীমিত আকারে ইভিএম ব্যবহার, অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের বিষয়েও উঠে আসবে।

সূত্র জানিয়েছে, এবার বিজয় দিবসের পরপরই ভোট হতে পারে। এতে ২০ ও ২৩ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারিত হতে পারে। তবে ২০ ডিসেম্বরই ভোটগ্রহণের দিন হিসেবে ইসির বিবেচনায় প্রাধান্য পাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের একাধিক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

নির্বাচন কমিশন থেকে সারা দেশে রিটার্নিং কর্মকর্তার দফতরে পাঠানো হচ্ছে প্রার্থীর মনোনয়নপত্র ফরমসহ নির্বাচনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। তফসিল ঘোষণার পর আগামীকাল শুক্রবার থেকে সারা দেশে মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু হবে। প্রথমবারের মতো অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের সুযোগ পাচ্ছেন প্রার্থীরা। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২-এ (আরপিও) ঋণখেলাপিসংক্রান্ত বিধিতে ত্রুটি রেখেই এ তফসিল ঘোষণা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, আজ সকালেই সিইসির নেতৃত্বে কমিশনসভায় একাদশ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা, যাচাই-বাছাই, প্রত্যাহারের দিনক্ষণসহ তফসিলের বিস্তারিত চূড়ান্ত করা হবে। ৩১ অক্টোবর থেকে নির্বাচনের ক্ষণ গণনা শুরু হয়েছে। ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত বর্তমান সংসদের মেয়াদ রয়েছে। ওই সময়ের মধ্যে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা আছে।

সেই হিসাবে ডিসেম্বরের ২০ তারিখের মধ্যেই নির্বাচন করার জন্য যাবতীয় প্রস্তুতির বেশিরভাগই সম্পন্ন করেছেন ইসি। সাধারণত ডিসেম্বর মাসে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে বার্ষিক পরীক্ষা থাকে। বার্ষিক পরীক্ষা যেন ১০ ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ করা হয়, সে জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেছে ইসি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সেই নির্দেশনা সব স্কুলে পাঠিয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

ইসির সহকারী সচিব সৈয়দ গোলাম রাশেদ স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রাথমিক নির্বাচনী সামগ্রী অর্থাৎ ফরম-১ (মনোনয়ন ফরম), ফরম-২০, ফরম-২১, ফরম-২ (জামানত বহি), ফরম-৩ (রসিদ বহি), ফরম-২২, ২২ (ক), ২২ (খ), ২২ (গ), আচরণ বিধিমালা, প্রতীকের পোস্টার ইত্যাদি গভর্নমেন্ট প্রিন্টিং প্রেস, তেজগাঁও, ঢাকা হতে সব সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার/জেলা নির্বাচন অফিসার বরাবর আজ ৮ নভেম্বর বিতরণ করা হবে। ‘বিশৃঙ্খলা’ হলে ‘ব্যবস্থা’ থাকবে : ইসি : নির্বাচনের তফসিলকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। সচিব জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় নির্দেশনা দেব। ঐক্যফ্রন্টের কর্মসূচি অবহিত না হলেও কেউ যদি তফসিল ঘোষণায় বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইসি সচিব জানান, ৮ নভেম্বর তফসিল ঘোষণায় আমাদের পূর্ব সিদ্ধান্তে অটল থাকতে বলেছে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টিসহ কয়েকটি দল। তারা বলেছেন, বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানের বিতর্কিত কর্মকর্তাদের যেন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া না হয়। ইসি যেন সংবিধান ও আইন মেনে কাজ করতে পারে, সেক্ষেত্রে দলগুলোর পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে বলে জানিয়েছে। সর্বোচ্চ নিরাপত্তা : জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণাকে সামনে রেখে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা। যে কোনো পরিস্থিতি সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সারা দেশেই সতর্ক রয়েছে। রাজধানীসহ সারা দেশে বাড়ানো হয়েছে র‌্যাব-পুলিশের টহল। গতকাল এই তফসিল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পুলিশ সদর দফতরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করে। এতে দেশের প্রতিটি থানায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ বার্তা দেওয়া হয়। এদিকে বিকাল থেকে জেলা উপজেলা শহর ছাড়াও মহাসড়কে পিকআপ ভ্যান এবং মোটরসাইকেল টহল বাড়ানো হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের ক্রান্তিকালীন সময়ে সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে স্বাভাবিক থাকে এই লক্ষ্যেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

আজ ৩০০ আসনে (প্রার্থীদের) মনোনয়ন ফরম পাঠানো হচ্ছে। আর তফসিল ঘোষণার পর প্রার্থী চূড়ান্ত শেষে ব্যালট পেপার ছাপার কাজ অতিদ্রুত করার প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছে, এবার রিটার্নিং অফিসার রাখা হচ্ছে প্রায় ৭৫ জন। আর সহকারী রিটার্নিং অফিসার থাকছে প্রায় ৬০০ জন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রায় ১০ কোটি ৪২ লাখ ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এবার ৩০০ আসনে ভোটের জন্য ভোটকেন্দ্র ৪০ হাজার ১৯৯টি, ভোটকক্ষ ২ লাখ ৬ হাজার ৫৪০টি। আর প্রতি ভোটকেন্দ্রে একজন প্রিসাইডিং, প্রতি ভোটকক্ষে একজন সহকারী প্রিসাইডিং ও দুজন পোলিং অফিসার নিয়োগ থাকবে। সেই হিসাবে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ৬ লাখ ৯৬ হাজার জন প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে প্রিসাইডিং অফিসার ও সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ২ লাখ ৬০ হাজার এবং পোলিং অফিসার ৪ লাখ ৩৬ হাজার জন। এ ছাড়া ৫ ভাগ অতিরিক্ত কর্মকর্তা প্রস্তুত রাখা হবে। সেই হিসাবে প্রিসাইডিং অফিসার ৪২ হাজার ২০৯ জন। সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ২ লাখ ৫৯ হাজার ৭৭ জন। পোলিং অফিসার ৪ লাখ ৩৩ হাজার ৭৩৪ জন। ই?সির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ব?লেন, ১৮, ১৯, ২০ ও ২২, ২৩ ও ২৭ ডি?সেম্বর এবং ৩ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচনের খসড়া তারিখ ইসির কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। কমিশন আজকের বৈঠকে একটি তারিখ চূড়ান্ত করবে।

নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বুধবার সন্ধ্যায় বলেন, বৃহস্পতিবারই তফসিল ঘোষণা করা হবে। এ সংক্রান্ত সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কর্মসূচির বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইসির অধীনে থাকবে। ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে।

প্রসঙ্গত, এর আগে নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধের কারণে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচনে বিএনপিসহ ইসির নিবন্ধিত কিছু দল বর্জন করেছিল। ফলে ওই ভোটে অর্ধেকের বেশি আসনের প্রার্থীরা বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হন। এবারেও একই ইস্যুতে রাজনৈতিক বিরোধ অব্যাহত রয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *