তবরেজ আনসারি হত্যার বিচারের দাবিতে হিন্দ জমিয়তের মানবন্ধন

তবরেজ আনসারি হত্যার বিচারের দাবিতে হিন্দ জমিয়তের মানবন্ধন

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ভারতের ঝাড়খণ্ডে চোর সন্দেহে তবরেজ আনসারি নামে মুসলিম যুবককে পিটিয়ে হত্যা প্রতিবাদে আদালতে বিচারের দাবিতে মানবন্ধন করেছে জমিয়তে উলামা হিন্দ।

জমিয়তে উলামা হিন্দের সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২৬ জুন) ভারতের ঝাড়খণ্ডের রাঁচির রাজভবনের সামনে এ মানবন্ধন হয়।

মানবন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, জমিয়তে উলামা হিন্দের জাতীয় নেতা মাওলানা নিয়াজ আহমেদ ফারুকী, মাওলানা মাতিনুল হক উসামা, আইনজীবী শাকিল আহমেদ, ঝাড়খন্ড রাজ্য জমিয়তে উলামা হিন্দের সম্পাদক মাওলানা আবু বকর, মাওলানা মহসিন আযমসহ প্রমূখ নেতৃবৃন্দ।

প্রসঙ্গত, রোববার (২৩ জুন) ভারতের ঝাড়খণ্ডে চোর সন্দেহে তবরেজ আনসারি নামে এক মুসলিম যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এসময় তাকে ‘জয় শ্রীরাম’ বলতে বাধ্য করা হয় বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে আনন্দবাজার।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পেটাতে পেটাতে যুবককে তার নাম জিজ্ঞেস করা হয়। পুরো নাম বলতে বলা হয়। উত্তর আসে, ‘‘তবরেজ আনসারি।’ এরপরই নির্যাতনের মাত্রা বাড়ে। সেসময় তাকে ‘জয় শ্রীরাম’ বলার নির্দেশ দেয়া হয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, তবরেজকে পেটাতে পেটাতে লাঠি ভেঙে যাচ্ছে এক জনের। বুকফাটা আর্তনাদ করছেন তবরেজ। অনেক পরে পুলিশ এসে তবরেজকে উদ্ধার করে চুরির দায়ে কোর্টে তোলে। কোর্ট পাঠায় জেল হেফাজতে। পরে তবরেজের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। সেখানে তিনি মারা যান।

তবরেজের পরিবার জানিয়েছে, পুনেতে ঝালাই মিস্ত্রির কাজ করতেন ২৪ বছরের ওই যুবক। ঈদ উপলক্ষে বাড়ি এসেছিলেন। ১৮ তারিখে আরও দু’জনের সঙ্গে জামশেদপুর যাবেন বলে বেরিয়েছিলেন তিনি। ভিডিওতে শোনা গিয়েছে, তবরেজ বলছেন, দুই ব্যক্তি তাকে একটি মোটরসাইকেলের সামনে অপেক্ষা করতে বলে পালিয়ে যায়।

আনন্দবাজার জানায়, ভিডিওগুলির ভিত্তিতে পাপ্পু মণ্ডল নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে এফআইআরে। পাপ্পুর সঙ্গে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের যোগ মেলেনি বলে পুলিশ দাবি করলেও কেউ কেউ মনে করিয়ে দিয়েছেন, ২০১৬ থেকে এই নিয়ে ১৩ জনকে পিটিয়ে মারা হল ঝাড়খণ্ডে, এমন তথ্য উঠে এসেছে প্রতিবেদনে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *