মাহমুদ এলাহী : ঈমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল নামাজ। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর পক্ষ থেকে বার বার নামাজের তাগিদ পেয়েছেন। পবিত্র কুরআন শরীফে আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন জায়গায় সরাসরি ৮২ বার সালাত শব্দ উল্লেখ করে নামাজের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
তাই নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাজকে ঈমানের পর স্থান দিয়েছেন। নামাজের গুরুত্ব ও ফায়েদা সম্পর্কে সাহাবায়ে কেরামের সামনে অসংখ্য হাদিন বর্ণনা করেছেন। তন্মধ্যে একটি হলো- হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম- (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘নামাজ’। (বুখারি ও মুসলিম)
আল্লাহ তাআলা মুসলমানদের ওপর দিন-রাত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন। নিচে ফরজ নামাজের সময় ও রাকাত সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।
১. ফজরের নামাজ দুই রাকাত। এর সময় হলো সুবহে সাদিকের পর থেকে সূর্যোদয়ের আগ পর্যন্ত। (মুসলিম, হাদিস : ১৪৫৬, ৯৬৬)
২. জোহরের নামাজ চার রাকাত। এর সময় শুরু হয় সূর্য মধ্য আসমান থেকে ঢলে পড়ার পর। প্রতিটি বস্তুর ছায়া দ্বিগুণ হওয়া পর্যন্ত জোহরের ওয়াক্ত বিদ্যমান থাকে। অর্থাৎ ছায়া দ্বিগুণ হওয়ার পর জোহরের সময় শেষ হয়। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭১৭, ৫০৬, মুসলিম, হাদিস : ৯৬৯) তবে অন্য মাজহাব মতে, বস্তুর ছায়া তার সমপরিমাণ হলে জোহরের ওয়াক্ত শেষ হয়ে যায়। তাই এর আগেই জোহরের নামাজ পড়া উত্তম।
৩. আসরের নামাজ চার রাকাত। জোহরের সময় শেষ হওয়ার পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত এর সময়। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭১৭, ৫৪৫)
৪. মাগরিবের নামাজ তিন রাকাত। এর সময় হলো সূর্যাস্তের পর আকাশ থেকে লালিমা বিদায় নেওয়া পর্যন্ত। (মুসলিম, হাদিস : ৯৬৯, দারা কুতনি, হাদিস : ১০৬৬)
৫. এশার নামাজ চার রাকাত। এর সময় হলো আকাশের লালিমা বিদায় নেওয়ার পর থেকে সুবহে সাদিকের আগ পর্যন্ত। (মুসলিম, হাদিস : ৯৬৯, সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫০৮, ৫৩৮, ৯৬৯)
নামাজের প্রতি যত্নবান হওয়া মুমিন মুসলমানরে ঈমানের দাবি ও ফরজ ইবাদত। নামাজি ব্যক্তিই হলো সফল। যার সুস্পষ্ট বর্ণনা দিয়েছেন প্রিয়নবি। তিনি বলেছেন- ‘যে ব্যক্তি নামাজের প্রতি যত্নবান থাকে; কেয়ামতের দিন ওই নামাজ তার জন্য নূর হবে এবং হিসেবের সময় নামাজ তার জন্য দলিল হবে এবং নামাজ তার জন্য নাজাতের কারণ হবে।’
যে ব্যক্তি নামাজের প্রতি যত্নবান হবে না- কেয়ামতের দিন নামাজ তার জন্য নূর ও দলিল হবে না। তার জন্য নাজাতের কোনো সনদও থাকবে না। বরং ফেরাউন, হামান ও উবাই ইবনে খালফের সাথে তার হাশর হবে।
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সহিহ তরিকায় সঠিক পদ্ধতিতে নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় করার তাওফিক দান করুন। ফরজ নামাজ আদায়ের পাশাপাশি নফল নামাজ আদায় করার তাওফিক দান করুন। নামাজকে পরকালের নাজাতের ওসিলা বানিয়ে দিন। আমিন।


