নিজস্ব প্রতিবেদক :: ঈদের ছুটি রোববার থেকে শুরু হলেও আগের দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় কার্যত আজ শুক্রবার থেকে এই ছুটি। টানা পাঁচ দিনের ছুটি পেয়ে ঈদে ঘরমুখী মানুষের ঢল নেমেছে কমলাপুর রেলস্টেশনে। যাত্রীদের ধাক্কাধাক্কি, ঠেলাঠেলি, ছাদে ওঠার লড়াই—চিরচেনা ঈদযাত্রার দৃশ্য। সকাল থেকে কয়েকটি রেলপথের ট্রেন ছাড়া বেশির ভাগ ট্রেনই সময়মতো স্টেশন ছেড়ে গেছে।
ঈদযাত্রায় এই ঝক্কির মধ্যেও যাত্রীদের উচ্ছ্বাসের কমতি নেই। মহাসড়কের মতো যানজটের আশঙ্কা নেই বলে অনেক একধরনের স্বস্তির কথা জানান। যিনি ট্রেনে উঠতে পারছেন, তাঁর মুখের হাসি যেন বলে দিচ্ছিল যুদ্ধজয়ের কথা। যাত্রীদের মধ্যে যাঁরা অগ্রিম টিকিট কাটেননি বা টিকিট কাটতে পারেননি, তাঁরা অনেকে দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকিট কেটেছেন। আবার অনেকে ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে উঠেছেন। সকাল থেকে স্টেশন ছেড়ে যাওয়া প্রায় সব পথের ট্রেনের ছাদেই লোক উঠতে দেখা গেছে। পুরুষের পাশাপাশি নারী ও শিশুদেরও ছাদে উঠতে দেখা যায়।
সকাল থেকে কমলাপুর স্টেশন থেকে ১৩টি ট্রেন বিভিন্ন পথে ছেড়ে গিয়েছে। এর মধ্যে চিলাহাটিগামী নীলসাগর ট্রেনটি স্টেশন ছেড়ে যেতে ২০ মিনিট দেরি করে। বাকি পথের ট্রেনগুলোর মধ্যে ধূমকেতু এক্সপ্রেস, সুন্দরবন এক্সপ্রেস, সোনার বাংলা এক্সপ্রেস, পারাবত এক্সপ্রেস, তিস্তা এক্সপ্রেস, মহানগর প্রভাতী এক্সপ্রেস, এগারসিন্ধু প্রভাতী এক্সপ্রেস ১০-১৫ মিনিট পর স্টেশন ছেড়ে চলে যায়। রংপুর এক্সপ্রেস সকাল ৯টায় ছাড়ার কথা থাকলেও বেলা ১১টা পর্যন্ত তা প্ল্যাটফর্মেই ছিল।
দেওয়ানগঞ্জ স্পেশাল ট্রেনের ছাদে পুরুষদের পাশাপাশি কয়েকজন নারী ও শিশুকে দেখা যায়। দিনমজুর মো. মাসুমও ছাদে চেপেছেন তাঁর সঙ্গে থাকা ছয় বন্ধুর সঙ্গে। মাসুম বলেন, ‘টিকিট কাটছি, কিন্তু ভিতরে দাঁড়ায় যাওন লাগব। ভিতরে তো গেদাগেদি আর গরোম। তাই ছাদে উঠছি। বাড়ি তো যাবাম।’


