মুফতী মুহাম্মদুল্লাহ ইয়াহ্ইয়া : পবিত্র রমজান মাস বড় মহিমান্বিত এক মাস। নেকি অর্জন এবং আল্লাহ তায়ালার তাকওয়া ও নৈকট্য লাভের বসন্তকাল এ মাস। বান্দার জিন্দেগীর মুহূর্তগুলোতে বেশি বেশি সওয়াব ও কল্যাণ সংগ্রহের জন্য আল্লাহ তাআলা বড় বড় সুযোগ করে দিয়েছেন, মাহে রমজান তেমনি বরকতময় একটি সুযোগ। এই মাসকে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও সহমর্মিতার মাস বলে আখ্যায়িত করেছেন। পবিত্র কোরআন নাজিলের মাস হল পবিত্র এ রমজান মাস তেমনি ভাবে এটা রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। এ মাসের একটি রাত তথা লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও বেশি মহিমান্বিত ও বরকতময় হিসেবে গণ্য করা হয় যা ৮৩ বছর ৪ মাস ইবাদত করার সমান ফজিলত রাখে। এতসব বরকতের কারণে রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রজব ও শাবান মাস থেকেই এ রমজানের জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকতেন। উম্মতকেও তিনি এজন্য দোয়া করতে বলতেন। তিনি পড়তেন ‘আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রজাবা শাবান ও বাল্লিগনা রমাদান’ শুয়াবুল ঈমান হাদীস নং ৩৮১৫।
রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করা নবীজির সর্বদা আমল ছিল। এক বছর কোন কারণে শেষ দশকের এতেকাফ পূর্ণ করতে না পারায় পরবর্তীতে শাওয়াল মাসে তা কাযা করেছিলেন নবীজী। [সহিহ বুখারি হাদিস নং ২০৪১]
রজব মাস শেষ হয়ে এখন চলছে শাবান মাস দু’একদিন পরেই রমজান শুরু হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ সুতরাং প্রত্যেক মুমিন নর-নারীর জন্য এখন থেকেই রমজানের প্রস্তুতি নেয়া জরুরী। প্রস্তুতি হিসেবে কোরআন তেলাওয়াত বাড়ানো, যাদের কোরআন পড়া শুদ্ধ নয় তারা রমজানের আগেই শুদ্ধ করে কুরআন তেলাওয়াত শিখে নেবে। কিছু কিছু রোজা রাখার অভ্যাস করবে দান সদকার হাত প্রসারিত করবে এবং রমজান মাসে দুনিয়াবি কাজের বাড়তি ঝামেলা এখনই চুকিয়ে ফেলবে। এসবের মাধ্যমে আমরা রমজানের প্রস্তুতি শুরু করতে পারি। আল্লাহ তা’আলা আমাদের সহায় হোন আমিন।
লেখক : শিক্ষক


