তাপপ্রবাহে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে শিশুরা

তাপপ্রবাহে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে শিশুরা

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম: বৈশাখের তাপপ্রবাহে পুড়ছে দেশ। বিপর্যস্ত হয়ে উঠছে জনজীবন। থার্মোমিটারের পারদ চড়ছে প্রতিদিনই। এমন পরিস্থিতিতে ডায়রিয়া, হিট স্ট্রোকসহ নানা ধরনের অসুস্থতা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে সতর্ক থাকার বিকল্প নেই।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, তীব্র্র গরমের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হিট স্ট্রোকের ঝুঁকিতে আছে নবজাতক, শিশু, গর্ভবতী নারী, গরমে সেবা দেওয়া ও শ্রমজীবী মানুষ, বয়স্ক ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি, চিকিৎসাধীন ব্যক্তি ও অতিরিক্ত ওজনের মানুষ।

চলমান তাপপ্রবাহের মধ্যে শিশুদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ শিশু তহবিল-ইউনিসেফ। একই সঙ্গে শিশুদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

ইউনিসেফের ২০২১ সালের শিশুদের জন্য জলবায়ু ঝুঁকি সূচকে (সিসিআরআই) বলা হয়েছে, বাংলাদেশে শিশুরা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে “অতি উচ্চ ঝুঁকিতে” রয়েছে।

এক বিবৃতিতে ইউনিসেফ বলেছে, অতিরিক্ত তাপমাত্রা শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে। বিশেষ করে, নবজাতক, সদ্যোজাত ও অল্পবয়সী শিশুদের জন্য; উচ্চ তাপমাত্রার প্রভাবে সৃষ্ট হিটস্ট্রোক ও পানিশূন্যতাজনিত ডায়রিয়ার মতো অসুস্থতায় এই বয়সী শিশুরা বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে।

শিশুদের ওপর তাপমাত্রা বৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সারা দেশে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছে।

বুধবার (২৪ এপ্রিল) বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি শেলডন ইয়েটের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, চলমান এই তাপপ্রবাহসহ জলবায়ু পরিবর্তনের আরও ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শিশুদের রক্ষা করার জন্য জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার এখনই সময়। অস্বাভাবিকভাবে তাপমাত্রা বাড়তে থাকায় আগে শিশু ও সবচেয়ে অসহায় জনগোষ্ঠীকে নিরাপদে রাখার প্রতি নজর দিতে হবে।

চলমান এই তাপপ্রবাহ থেকে শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের সুরক্ষার জন্য ইউনিসেফ সম্মুখসারির কর্মী, বাবা-মা, পরিবার, পরিচর্যাকারী ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি বেশকিছু পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সেগুলো হলো-

শিশুরা যেখানেই থাকুক না কেন তাদের বসা ও খেলার জন্য ঠান্ডা জায়গার ব্যবস্থা করুন। তপ্ত দুপুর ও বিকেলের কয়েক ঘণ্টা তাদের বাড়ির বাইরে বের হওয়া থেকে বিরত রাখুন।

শিশুরা যেন হালকা ও বাতাস চলাচলের উপযোগী পোশাক পরে, তা নিশ্চিত করতে হবে। সেই সঙ্গে সারা দিন তারা যেন প্রচুর পানি পান করে, সেটাও নিশ্চিত করতে হবে।

যদি কোনো শিশু বা অন্তঃসত্ত্বা নারীর মধ্যে “হিট স্ট্রেস” বা তাপমাত্রাজনিত সমস্যার উপসর্গ দেখা দেয় (মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত ঘাম, বমি বমি ভাব, হালকা জ্বর, নাক দিয়ে রক্ত পড়া, মাংসপেশিতে টান, ডায়াপার পরার জায়গাগুলোতে ফুসকুড়ি) তাহলে তাকে একটি ঠান্ডা জায়গায় নিয়ে যান- যেখানে ছায়া এবং পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের সুযোগ আছে। এরপর ভেজা তোয়ালে দিয়ে তার শরীর মুছিয়ে দিন বা গায়ে ঠান্ডা পানি দিন। তাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি বা খাবার স্যালাইন (ওআরএস) পান করতে দিন। তবে হিট স্ট্রেসের (তাপমাত্রাজনিত অসুস্থতার) উপসর্গ তীব্র হলে (সাড়া না দিলে বা অজ্ঞান হয়ে পড়লে, তীব্র জ্বর, হৃদস্পন্দন বেড়ে গেলে, খিঁচুনি দেখা দিলে এবং অচেতন হয়ে পড়লে) সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিতে হবে।

তাপপ্রবাহ চলাকালে অসহায় পরিবার, প্রতিবন্ধী শিশু, অন্তঃসত্ত্বা নারী ও প্রবীণ ব্যক্তিরাই সবার আগে অসুস্থ হয়ে পড়েন, এমনকি মৃত্যুর উচ্চ ঝুঁকিতেও তারাই বেশি থাকেন। আপনার প্রতিবেশী, বিশেষ করে যারা একা থাকেন, তাদের খোঁজ নিন ও খেয়াল রাখুন।

সূত্র: ঢাকা ট্রিবিউন

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *