নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর যানজট নিরসনে তৈরি করা মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের ওপর মৌচাক পয়েন্টে সিগন্যাল-ব্যবস্থা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। ত্রুটিপূর্ণ নকশার কারণে দেয়া হয়েছিল সিগন্যাল ব্যবস্থা। কিন্তু এ সিগন্যাল ব্যবস্থা মৃত্যুপুরীতে রূপ নিয়েছে। কারণ যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে ১১টি সিগন্যাল বাতি বসেছে; কিন্তু এর মধ্যে মালিবাগ মোড়ের ছয়টি ও মৌচাক মোড়ের পাঁচটি বাতির কোনোটি জ্বলছে না। সরেজমিনে মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে সিগন্যাল পয়েন্টগুলোতে ট্রাফিক পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী থাকলেও তাদের অলস সময় পার করতে দেখা যায়। সাংবাদিকের ক্যামেরা দেখে অলস সময় পার করা নিরাপত্তাকর্মীরা ট্রাফিক পুলিশের ভূমিকা পালন শুরু করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মীরা বলেন, তিন-চার মাস ধরে সিগন্যাল বাতি জ্বলে না। তাই যানবাহনগুলো নিজেদের খেয়াল খুশিমতো চলাচল করে। আর যানবাহন চালকরা আমাদের গালমন্দ করেন। বিশেষ করে রাতে যানবাহনের গতি আরও কমে যায়। কারণ বেশিরভাগ ল্যাম্পপোস্টের বাতি জ্বলে না। নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে পরিবহনগুলো চলাচল করে। যেকোনও মুহূর্তে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
এ বিষয়ে মালিবাগ-মৌচাক ফ্লাইওভারের প্রকল্প পরিচালক সুশান্ত কুমার পাল বলেন, মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারটি উদ্বোধনের পর প্রায়ই বৈদ্যুতিক তার চুরি হয়। ফলে সিগন্যাল বাতি ও ল্যাম্পপোস্টের বাতি অকার্যকর হয়ে পড়ে। এ পর্যন্ত চার বার তার চুরি হয়েছে। প্রথম দুইবার তার চুরির পরই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে থানায় দুটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। তারাই দুইবার তার লাগিয়েছে তাদের খরচে। এখন আবার তার চুরির পর কে টাকা খরচ করে তার লাগাবে, এ জন্য টানাপোড়েনের কারণেই তার লাগানো হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, ফ্লাইওভারটি দেখভালের দায়িত্ব সংকটের কারণে এমনটি হচ্ছে। মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারটির বাংলামোটর, মগবাজার, তেজগাঁও, মালিবাগ রেলগেট, রামপুরা অংশ পড়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতায়। আর বাকি অংশ মৌচাক, মালিবাগ মোড়, রাজারবাগ, শান্তিনগর অংশ পড়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতায়। ঢাকার দক্ষিণ ও উত্তর দুই সিটির এলাকা অনুসারে দেখভালের দায়িত্ব দেয়া হবে শিগগিরই। এরপর তারাই এসব বিষয়ে নজরদারি করবে।


