থেমেছে আন্দোলন, স্থগিত ২৮ মার্চ পর্যন্ত

থেমেছে আন্দোলন, স্থগিত ২৮ মার্চ পর্যন্ত

থেমেছে আন্দোলন, স্থগিত ২৮ মার্চ পর্যন্ত

পাথেয় রিপোর্ট : পথে পথে বাধা ভয়াবহ বিপত্তির হলেও স্কুল শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অসাংবিধানিক কিছু নয়। আবরারের শাহাদতের পর বিশেষত সুপ্রভাত চলার রাস্তায় শিক্ষর্থীরা পথ আটকে রেখেছিলো থেমে থেমে। তবে রাস্তায় সুখবর মিলেছে। আন্দোলন স্থগিত ২৮ মার্চ পর্যন্ত । শিক্ষার্থীরা সরে পড়ছে। বুধবার বিকেলে ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান বিইউপির আইন বিভাগের শিক্ষার্থী তাওহিদুজ্জামান।

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ছাত্র আবরাম আহম্মেদ চৌধুরী নিহতের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন আগামী ২৮ মার্চ পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করেছেন শিক্ষার্থীরা।

পরে ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, শিক্ষার্থীদের সব দাবিই যৌক্তিক। এগুলো আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য যথাসম্ভব চেষ্টা করবেন তিনি।

এর আগে বেলা দুটায় মেয়র আতিকুলের সঙ্গে বিইউপির ১০ শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল ওই বৈঠকে অংশ নেয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া, বিইউপি ভিসি মেজর জেনারেল এমদাদ উল বারীসহ পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

সাধারণ মানুষের মাঝে প্রচলিত কথা হলো, এদেশে কারও মৃত্যু না হলে কোনো কিছুর পরিবর্তন হয় না। কিন্তু পরিবহন সেক্টর যেন সবকিছু ঊর্ধ্বে! কোনো কিছুতেই এদের মাথাব্যথা নেই। আবরারকে যে চালকটি চাপা দিয়েছেন; তার কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। দিয়া-করিমকে যে ড্রাইভারটি মেরেছিল; তারও কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না। ওই মৃত্যুর পর চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স নিশ্চিত করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। চালকদের মাদক সেবন বন্ধ করা যায়নি। এখনও দিনে দুপুরে প্রকাশ্যে বাসে বসেই মাদক সেবন করে তারা!

দিয়া-করিমের মৃত্যুর পর চালকদের প্রশিক্ষণ; মোটিভেশন দেওয়াসহ অনেক কথাই শোনা গেছে; যার একটাও বাস্তবায়িত হয়নি। মহাসড়কে বাসের প্রতিযোগিতা বন্ধ করা যায়নি। আমরা যারা বাসে করে অফিসে যাতায়াত করি; তারা প্রতিদিন দুই বাসের প্রতিযোগিতার সন্মুখীন হই। চিৎকার চেঁচামেচি ধমকেও চালকের কোনো ভ্রুক্ষেপ হয় না। রীতিমতো প্রাণ হাতে নিয়ে গন্তব্যে যেতে হয়। রাস্তায় বের হওয়ার পর সুস্থ দেহে বাসায় ফেরা হবে কিনা; তা পুরোপুরি অনিশ্চিত!

এদেশের চালকেরা ট্রাফিক আইন আদৌ জানে কিনা তাতে বিস্তর সন্দেহ আছে। জেব্রা ক্রসিংয়ে একজন মানুষও দাঁড়ালে বাস থামাতে হবে; এটা এদেশের চালকরা হয়তো জানেই না! আবরার এই জেব্রা ক্রসিংয়েই লাশ হয়েছেন। দিয়া-করিমের মৃত্যুর পরও ফিটনেসবিহীন বাসে রাজধানী সয়লাব। এর একটিও বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। একটি বা দুটি কম্পানির আওতায় বাস চালানোর যে কথা শোনা যাচ্ছিল সেটা মুখের বুলিতেই আটকে আছে। যাত্রী ওঠা-নামা করার নির্দিষ্ট জায়গা ব্যবহারে বাধ্য করা যায়নি। যে দেশে পুলিশকে ২০ টাকা ধরিয়ে দিলে সাত খুন মাপ হয়ে যায়; সে দেশে এসব সভ্য আইন কীভাবে বাস্তবায়িত হবে?

মাথা ব্যথার জন্য ওষুধ না দিয়ে মাথা কেটে ফেলায় আমাদের জুড়ি মেলা ভার! জাবালে নূর আবারও রাস্তায় ফিরে এসেছে। গতকাল বন্ধ হওয়া সুপ্রভাতও আবার ফিরবে। বাসের নামে কী আসে যায়। সুপ্রভাত যদি কখনও রাস্তায় নাও নামে; সেই গাড়ির চালকেরা অন্য বাস চালাবে। সেই বাসগুলো অন্য কোনো কম্পানির নামে চলবে। জাবালে নূর যেভাবে চলেছে। আবারও চালকেরা মানুষ মারবে। প্রতিদিনই এই চালকরা সারাদেশে মানুষ মেরে চলছে; যা অনেকটা গা সওয়া হয়ে গেছে। সবকিছু স্বাভাবিক হবে; কিন্তু বাস্তবায়িত হবে না সভ্য আইন! আমরা কি কখনও সভ্য জাতি হতে পারব না?

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *