দয়াময়! এমন একটি ভোরের অপেক্ষায়
রিয়াজুল ইসলাম ❑ মুয়াজ্জিন সাহেব আজ হৃদয়ের মাধুরি মিশিয়ে কণ্ঠের সবটুকু সুর ঢেলে দিয়ে আযান দিলেন ‘হাইয়া আলাস সালাহ, হাইয়া আলাল ফালাহ’। আচমকাই প্রতিটি ঘরে বাতি জ্বলে উঠালো। মহল্লায় আনন্দের জোয়ার বয়ে গেলো। অজু করে মসজিদ পানে ছুটলো ছোট-বড় বৃদ্ধ সবাই। অনেক দিন পর আবারও আজ মসিজদে যাচ্ছে। দয়াময় প্রভুর সিজদায় মাথানত করবে বলে। প্রভু যে তাদেরকে আবার তাঁর ঘরে প্রবেশের সুযোগ করে দিয়েছেন।
আজ সে আনন্দে চিৎকার করে বাচ্চাদের পড়াচ্ছে। অনেকদিন পর সে এমন আনন্দ অনুভব করছে।
ইমাম সাহেব অনেকদিন পর আজ ফজরের নামাজে দীর্ঘ ক্বিরাত ধরলেন। হৃদয়ে আবেগ ঢেলে পড়লেন। সারা মসজিদ কান্নার রোল পড়ে গেলো। এ কান্না কষ্টের কান্না নয়।এ কান্না আনন্দের কান্না। রব্বের প্রতি কৃতজ্ঞতার কান্না। আজ যে মুসলিম উম্মাহকে তিনি করোনা নামক মহামারি থেকে মুক্তি দিয়েছেন।
আব্দুল্লাহ সাহেব একটা মক্তবে পড়ান। আজ সে আনন্দে চিৎকার করে বাচ্চাদের পড়াচ্ছে। অনেকদিন পর সে এমন আনন্দ অনুভব করছে। এই বাচ্চাদের সে নিজের সন্তানের মতো আদরযত্ন করে পড়ান। করোনা মুক্ত একটি সকালে সে আজ একই সাথে আনন্দিত ও রব্বের প্রতি কৃতজ্ঞ।
বা’দ আসর এলাকার সাথী ভাইয়েরা মুখতাসার বয়ানের পর গাশতে বের হয়েছেন। রাস্তায় অন্যান্য সাথী ভাইদের সাথে দেখা হলে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কান্না করছেন। এ কান্না কষ্টের কান্না নয়।এ কান্না রাব্বুল আলামিনের দরবারে কৃতজ্ঞতার কান্না। প্রিয় ভাইদের সাথে তিনিই পুনরায় মিলিয়ে মিলিয়ে দিয়েছেন।
[একদিন এই মহামারি শেষ হবে, আমরা আবার নিত্যদিনের চিরচেনা আনন্দমুখর সেই জীবনের কোলাহলে ফিরে যাবো। এই প্রত্যাশায় ছোট্ট লেখাটি। আল্লাহ যেন শীঘ্রই এমন দৃশ্যপট সৃষ্টি করে দেন। আমীন।]
লেখক: শিক্ষক, জামিয়া ইকরা বাংলাদেশ


