দীর্ঘ সময় ঘরবন্দি হতাশায় ভুগছে শিক্ষার্থীরা

দীর্ঘ সময় ঘরবন্দি হতাশায় ভুগছে শিক্ষার্থীরা

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ! যেতে পারছেনা কোথাও বেড়াতে। ঘরে বসে সময় পার করতে হচ্ছে তাদের। যাদের এখন মাঠে খেলা সময়। দল বেধে ছুটার সময় মহামারী করোনাভাইরাসের জন্য সে সকল ছেলে মেয়েরা এখন ঘরবন্দী হয়ে রয়েছে। এতে করে স্কুলে গিয়ে পড়াশোনা যেমন বন্ধ তেমন অনেকের ঘরে টিভি না থাকার কারনে তাও সুযোগ হচ্ছে না তাদের দেখার। এতে শুধু তাদের পড়ালেখার ক্ষতি হচ্ছে না, মন ও আচরণেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

মহামারি করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সরকার দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কোচিং সেন্টার ও প্রাইভেট নিষিদ্ধ করায় ঘরবন্দি হয়ে রয়েছে শিক্ষার্থীরা। আবার দল বেধে কোথাও যাওয়ার রয়েছে সমস্যা। পারছে না এক জোট হয়ে মাঠে খেলা করতে। সরকারিভাবে সংসদ টিভিতে পাঠদান হলেও তেমন কাজে আসছে না বলে জানান অভিভাবকরা।

অভিভাবক ও সচেতন মহলের ভাষ্য, টিভি চ্যানেলগুলোয় মহামারী করোনাভাইরাসের ভয়াবহতা প্রচার করায় ঘরের ভেতরের পরিবেশ হতাশাময় হয়ে উঠেছে। কোথাও আনন্দের ছিটেফোটাও নেই। এই পরিস্থিতির মধ্যেও কিছু চ্যানেল ছায়াছবি ও বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান প্রচার করেই যাচ্ছে। কিন্তু চ্যানেলগুলো যদি সংসদ টিভির মতো পাঠদানের অনুষ্ঠান প্রচার করত তাহলে পড়ালেখা নিয়ে ব্যস্ত থাকতে পারত শিক্ষার্থীরা। এতে কিছুটা হলেও হতাশা ও ঘরবন্দি থাকার কষ্ট ভুলে যেতে পারত তারা।

শিক্ষকদের সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন আগে স্কুলগুলো থেকে শিক্ষার্থীদের ডাটা সংগ্রহ করা হয়। কাদের ঘরে বা পাশের ঘরে টিভি আছে, কাদের স্মার্টফোন রয়েছে।

শরীয়তপুরের ডামুড্যার পঞ্চম শ্রেণীর পড়ুয়া হাবিব শিকদার বলেন, আমার বাবায় কৃষিকাজ করে। আমাদের এদিকে কয়েকদিন আগে কারেন্ট আসছে। ঘরে টিভি নেই তাই দেখতে পারছি না সংসদ টিভির পাঠদানের ক্লাসটি। শুধু আমি না এছাড়া অনেকে ই আছে ঘরে টিভি নেই বা কারেন্ট নাই।

ডামুড্যার শামিম, কাউছার, মামুন, ইব্রাহীমসহ আরো অনেক অভিভাবকদের সাথে কথা বললে জানা যায়, প্রায় ৫ মাস যাবত স্কুল বন্ধ। ছেলে মেয়ে ঘরে বসে আছে। খালি ফোনে গেমস আর গেমস। প্রথম কয়েকদিন ফোনেই পড়ানো হত। কিন্তু এখন তাও হয় না। বসতেই চায় না। কেমন জানি হয়ে যাচ্ছে ছেলে মেয়েগুলো বন্দী থাকতে থাকতে। সরকার যদি সব টিভিতে ঘণ্টা করে এই পাঠদান চালু করতো তা হলে হয়ত এটি শিক্ষার্থীদের কাজে আসত।

ডামুড্যার পূর্ব ডামুড্যা ইউনিয়নের লুৎফর দোকানদার, মাহাবুব, রাজা বকাউল বলেন, একদিকে করোনা নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে আছি। অন্যদিকে রয়েছে বাচ্চাদের পড়ালেখা নিয়ে দুশ্চিন্তা। এ অবস্থায় জোর করে তাদের পড়ানো যাচ্ছে না। দিন দিন ওদের মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাচ্ছে। আমাদের এদিকে তো সেই দিন কারেন্ট আসছে টিভি আছে ভিসিডি আছে। কিন্তু ডিস নাই। এতে করে দেখা সম্ভব হচ্ছে না।

শিক্ষকরা বলেন, ‘সংসদ টিভির পাঠদান শুধু ডিসের লাইন আছে এমন এলাকাতেই সম্প্রচার হয়। কিন্তু এটি অনেক ডিসের লাইনে নাই আবার বিভিন্ন এলাকায় ঘরে ঘরে টিভি নেই বা স্মার্টফোন নেই। যে তাদের ঘরে বসে দেখবে এই পাঠদানটি। তাই পাঠদান অনুষ্ঠানটি বিটিভির পাশাপাশি সব ধরনের চ্যানেলে সম্প্রচার হলে গ্রামের শিক্ষার্থীরা উপকৃত হতো। ’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *