দুর্ঘটনা কবলিত এলাকা চিহ্নিত করে গতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিন

দুর্ঘটনা কবলিত এলাকা চিহ্নিত করে গতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিন

দুর্ঘটনা কবলিত এলাকা চিহ্নিত করে গতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিন

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : আমরা সড়ক নিয়ে খেই হারিয়ে ফেলছি। কেবল সড়ক নয় রেলের সঙ্গে সড়কের গাড়ির ধাক্কা লাগছে। এগুলো ভয়াবহ চিত্র হিসেবে বিবেচনা করা যায়। আমরা সড়কের বেহালা অবস্থা দেখতে দেখতে দিশেহারা। প্রতিদিন সড়কে ঝরছে প্রাণ। দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। যাত্রী ওঠানামা আর অতিরিক্ত ট্রিপের আশায় চালক বেপরোয়া থাকে।

বাড়তি ট্রিপের আশায় নিয়ন্ত্রণহীন গতিতে যানবাহন চালানো, ট্রাফিক আইন না মানা, লাইসেন্সবিহীন চালক আর ফিটনেসবিহীন গাড়ি—মূলত এসব কারণেই প্রতিদিন সড়কে দুর্ঘটনা ঘটছে। শুক্রবার এক দিনে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত হওয়ার খবর এসেছে সংবাদমাধ্যমে। এর মধ্যে জয়পুরহাট সদর উপজেলায় একটি বাস খাদে পড়ে শিশু ও নারীসহ আটজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে অন্তত ৩০ জন। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের বন্দর, হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ, শেরপুর, বরগুনার পাথরঘাটা, মেহেরপুরের গাংনী, নেত্রকোনার মদন ও চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় সাতজনের মৃত্যু হয়েছে।

দেশে প্রতিদিন যে দুর্ঘটনাগুলো ঘটছে, তার জন্য চালকদের বেপরোয়া মনোভাব অনেকাংশে দায়ী। জয়পুরহাটে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটির যাত্রীদের অভিযোগ, চালক বেপরোয়াভাবে বাস চালাচ্ছিলেন। শুধু বেপরোয়া গতিই নয়, সড়কে গাড়ি নিয়ে ওঠার পর থেকেই বেপরোয়া হয়ে ওঠেন অনেক চালক।

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মালিবাগ এলাকায় একটি কাভার্ড ভ্যান তুলে দেওয়া হয়েছে কর্তব্যরত এক এসআইয়ের ওপর। তিনি ওই কাভার্ড ভ্যানটি থামার সংকেত দিয়েছিলেন। কিন্তু চালক আইন মানতে চাননি। তিনি কাভার্ড ভ্যান তুলে দিয়েছেন এসআইয়ের ওপর। এসব নিয়ে চালকদের মধ্যে কোনো অনুশোচনা কখনো কাজ করে বলে মনে হয় না। এমনকি যানবাহনের মালিকদের মধ্যেও মানবিক বিবেচনাবোধ কতটুকু কাজ করে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যেতে পারে।

আমরা মনে করি, চালকদের আরও সহনশীলতার পরিচয় দিতে হবে। দরকার, সেই দায়িত্ববোধের অভাব রয়েছে বেশির ভাগ চালকের। আইন না মেনে চলার মানসিকতা তাদের বেপরোয়া করে তুলেছে। ফলে দুর্ঘটনা ঘটছে। কোনো রকমে ড্রাইভিং শিখে, ভুয়া লাইসেন্স সংগ্রহ করে গাড়ি চালাচ্ছে এমন চালকের সংখ্যাও তো দেশে কম নয়। অন্যদিকে ট্রিপের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য চাপ তো আছেই। সব মিলিয়ে পরিবহন সেক্টরে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা না গেলে দুর্ঘটনা কমানো যাবে না।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *