দেওবন্দে বিদেশী শিক্ষার্থী ভর্তি সংক্রান্ত নতুন নীতিমালা
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ভারতের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় বিদ্যাপীঠ দারুল উলূম দেওবন্দের ইলমী আঙ্গিনা ইতোমধ্যেই নতুন ভর্তি হতে আসা শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। দেওবন্দ শহরকেন্দ্রিক গড়ে উঠা দারুল উলূম দেওবন্দ ও ওয়াক্ফ দেওবন্দ মাদরাসায় ভর্তি হতে আসা ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ ও বিদেশী শিক্ষার্থীদের আগমনে এক নতুন আবহ সৃষ্টি হয়েছে। চলতি শিক্ষাবর্ষের ভর্তির জন্য ভর্তি সংক্রান্ত নতুন নীতিমালাও প্রণয়ন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। নীতিমালায় বলা হয়, বিদেশী শিক্ষার্থীদের ভর্তির জন্য অবশ্যই স্টুডেন্ট ভিসা ক্লিয়ার হওয়া লাগবে। আগের মতো ট্যুরিস্ট ভিসায় কোন ছাত্র অধ্যয়ন করতে পারবে না।
এছাড়া, প্রত্যেক দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত কোটা থাকবে। কোটা পূরণ হয়ে গেলে আর কোন শিক্ষার্থী আবেদন করতে পারবে না।
বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য ঐ দেশের কোন বড় মুরুব্বীর সুপারিশসহ দস্তখত লাগবে। অন্যথায়, আবেদন নাকচ করে দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, এবছর দারুল উলূম দেওবন্দ বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য তা’লিমি মুরুব্বি (শিক্ষা সংক্রান্ত অভিভাবক) আবশ্যক করে দিয়েছে। এবং বলা হয়েছে, চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকে বিদেশী শিক্ষার্থীদের স্বদেশীয় তা’লিমি মুরুব্বী ব্যতীত ভর্তি নেওয়া হবে না।
ভর্তি সংক্রান্ত উক্ত নীতিমালা দারুল উলূম দেওবন্দ ও ওয়াক্ফ দেওবন্দের জন্য চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকে কার্যকর করা হয়েছে।
চলতি শিক্ষাবর্ষে প্রায় ১৪০০০ (চৌদ্দহাজার)শিক্ষার্থী ভর্তির আবেদন করে। এর মধ্যে মাত্র ৫০০০(পাঁচহাজার) শিক্ষার্থীর ভর্তি সম্পন্ন হয়েছে। বিগত ৬ শাওয়াল মোতাবেক ১০ জুন নতুন শিক্ষার্থীদের ভর্তি শেষ হয়েছে। এবং আগামী ১১ শাওয়াল থেকে নতুন শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরু হয়ে যাবে।
এসম্পর্কে দারুল উলূম দেওবন্দ ওয়াক্ফ ও হুজ্জাতুল ইসলাম একাডেমীর চেয়ারম্যান মাওলানা সাকিব কাসেমী বলেন, চলতি শিক্ষাবর্ষে অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তির আবেদন করার পরও নীতিমালার কঠোরতার কারনে বাদ পড়েছে। তাদের জন্য ১২-২০ই জুন পর্যন্ত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পূণরায় আবেদন করে ভর্তি হওয়ার সুযোগ রয়েছে। শুধু দেওবন্দই নয় বরং দারুল উলুম জাকারিয়াসহ ভারতের সকল বড়বড় প্রতিষ্ঠানেই বিদেশী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে স্বদেশীয় তা’লিমি মুরুব্বী আবশ্যক করেছে। অনেক ছাত্রই আবেদন করে শেষ পর্যন্ত ইলম হাসিল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
অনুবাদ ও গ্রন্থনা : আহমাদ কাশফী
সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির
সূত্র : হামারা সমাজ, দিল্লী


