দেশটা সবার, মিলে মিশে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে: সংলাপে প্রধানমন্ত্রী

দেশটা সবার, মিলে মিশে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে: সংলাপে প্রধানমন্ত্রী

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : দেশটা আমাদের সবার। আমাদের সবার মিলে মিশে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। সংলাপে অংশ নেয়া জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের উদ্দেশে সূচনা বক্তব্যে একথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ ১ নভেম্বর বৃহস্পতিবার গণভবনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের সঙ্গে সংলাপে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সময়ে কেমন উন্নয়ন হয়েছে তার বিচারের ভার আপনাদের, আমাদের সবাই মিলে মিশে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। আওয়ামী লীগ ৯ বছর ক্ষমতায় থেকে দেশের যা উন্নয়ন করেছে, তা সবাই দেখেছেন। এখন এই দেশটাকে আরও সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

সংলাপের শুরুতে সবাইকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, আজকে এই অনুষ্ঠানে আপনারা এসেছেন গণভবন ও জনগণের ভবনে। এই ভবনে আপনাদেরকে স্বাগত জানাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দেশটা আমাদের সকলের। মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং দেশের সার্বিক উন্নয়ন এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমি এটা বিচারের ভার আপনাদের ওপর ছেড়ে দেব। দীর্ঘ নয় বছর ১০ মাস হতে চললো, আমরা এই সময়ের মধ্যে দেশে কত উন্নয়ন করতে পেরেছি সেটা নিশ্চয়ই আপনারা বিবেচনা করে দেখবেন। এটুকু বলতে পারি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ভালো আছে, তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটছে।

শেখ হাসিনা বলেন, দিনবদলের যে সূচনা করেছিলাম সেই দিন বদল হচ্ছে। এটাকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাস্তবায়ন করতে হবে। লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে জাতির পিতার নেতৃত্বে আমরা এ স্বাধীনতা অর্জন করেছি। আজকে সেই স্বাধীনতার সুফল যেন প্রতিটি মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছতে পারে সেটাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্য আর্থসামাজিক উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছি। দীর্ঘ সংগ্রামের পথ পাড়ি দিয়ে গণতন্ত্রের যাত্রা এবং উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে আজকের দিনটি বিরাট অবদান রাখবে বলে মনে করি।

সংলাপে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ছিল ক্ষমতাসীন জোটের ২৩ নেতা। এই প্রতিনিধিদলে রয়েছেন- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের মধ্যে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ সংলাপে উপস্থিত থাকবেন। সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের মধ্যে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ১৪ দলের মুখপাত্র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, কাজী জাফর উল্লাহ এবং ড. আবদুর রাজ্জাক আলোচনায় অংশ নেন।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন, অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু এমপি, দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ এবং আইন সম্পাদক শ. ম. রেজাউল করিমও আছেন এ সংলাপে।

১৪ দলের শরিকদের মধ্যে সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, জাসদ একাংশের সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, জাসদ আরেক অংশের কার্যকরী সভাপতি মাঈনুদ্দীন খান বাদল সংলাপে অংশ নেন।

এদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ২১ সদস্যের প্রতিনিধিদলে রয়েছেন- মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সচিব আ ব ম মোস্তফা আমীন, সাবেক দুই সংসদ সদস্য এস এম আকরাম ও সুলতান মো. মনসুর আহমেদ, জেএসডির আ স ম আবদুর রব, তানিয়া রব, আবদুল মালেক রতন, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, মোস্তফা মহসিন মন্টু, মোকাব্বির খান, জগলুল হায়দার আফ্রিক, আ ও ম শফিকউল্লাহ এবং নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না।

এদিন সন্ধ্যা ৭টায় গণভবনে শুরু হয় বহু কাঙ্ক্ষিত সংলাপ। ক্ষমতাসীন জোট ও বিরোধী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গণভবনে প্রবেশ করেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা।

এর আগে সন্ধ্যা সোয়া ৫টায় কামাল হোসেনের বেইলি রোডের বাসায় রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। পরে তারা সেখান থেকে বেরিয়ে সংলাপের জন্য গণভবনের দিকে রওয়ানা দেন।

এসময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘আশা করি এই সংলাপের মধ্য দিয়ে দেশবাসী ভালো খবর পাবে। মানুষের ভোটের অধিকার নিশ্চিত হবে।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *