বগুড়া ব্যুরো : বগুড়ার শিবগঞ্জের মোকামতলার গণেশপুর হাফেজিয়া মাদ্রাসার অরক্ষিত কূপ থেকে আল-হাসিব (৫) নামে এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার বিকালে নিখোঁজ হওয়ার পর গভীর রাতে তার লাশ পাওয়া যায়।
শিশু আল-হাসিবের লাশটি পাওয়া যায় হাফেজিয়া মাদ্রাসার টয়লেটের অরক্ষিত কূপ থেকে। আল-হাসিব হাফেজিয়া মাদ্রাসার কায়দা বিভাগের ছাত্র।
শিশুর মা রাশেদা বেগম বৃহস্পতিবার দুপুরে শিবগঞ্জ থানায় অবহেলায় তার ছেলের মৃত্যুর অভিযোগে অধ্যক্ষসহ ৪ শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির ৩ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
এ টনায় পুলিশ মাদরাসার অধ্যক্ষকে (মুহতামিম) মাওলানা আবদুর রাজ্জাককে গ্রেফতার করেছে।
মামলার আসামিরা হলেন বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার বিলহামলা গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে অধ্যক্ষ মাওলানা আবদুর রাজ্জাক, শিক্ষক শব্দলদীঘি গ্রামের তোতা মিয়ার ছেলে আরিফুল ইসলাম, চাঁনপুর গ্রামের শামসুল হকের ছেলে আবদুর রাজ্জাক ও নাটোরের সিংড়া উপজেলার মালপুর গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে মাসুদুর রহমান এবং ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জামাল উদ্দিন, সেক্রেটারি আবদুল মান্নান ও সহকারী সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীন।
শিবগঞ্জ থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, শিশু আল-হাসিব মোকামতলা ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামের খড়ি ব্যবসায়ী আবদুর রাজ্জাকের ছেলে। প্রায় ৬ মাস আগে হাসিবকে গণেশপুর হাফেজিয়া মাদ্রাসায় হেফজ বিভাগে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সে কায়দা পড়ছিল। স্বজনরা সকালে মাদ্রাসায় রেখে যেতেন, আবার বিকালে নিয়ে যেতেন।
ওসি মিজানুর রহমান জানান, মাদ্রাসার একতলা নতুন ভবনের পাশে একটি পরিত্যক্ত টয়লেটের অরক্ষিত কূপ ছিল। পাশেই আতা গাছ দিয়ে ছাত্ররা ছাদে উঠত। বুধবার বিকালে হাসিবকে আনতে গেলে তাকে মাদ্রাসায় পাওয়া যায়নি। তার সন্ধান পেতে মাইকিং করা হয়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর রাত আড়াইটার দিকে প্রায় ১০ ফুট গভীর ওই পরিত্যক্ত কূপে পানির নিচে তার পা দেখতে পাওয়া যায়। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তার ধারণ, হাসিব গাছ বেয়ে ছাদে ওঠার চেষ্টা করলে ওই কূপে পড়ে মারা যায়। কূপটি অরক্ষিত রেখে কর্তব্যে অবহেলায় শিশুটির মৃত্যু হওয়ায় বৃহস্পতিবার তা মা থানায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। গ্রামবাসীদের দাবির মুখে অধ্যক্ষ মাওলানা আবদুর রাজ্জাককে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
অধ্যক্ষ জানান, দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত টয়লেটের কূপের ঢাকনা নেই। বাচ্চারা পাশে খেলাধুলা করে। তার ধারণা, খেলতে গিয়ে শিশু হাসিব কূপে পড়ে মারা গেছে।


