দ্বীন প্রচারের বড় মাধ্যম ওয়াজ মাহফিল

দ্বীন প্রচারের বড় মাধ্যম ওয়াজ মাহফিল

দ্বীন প্রচারের বড় মাধ্যম ওয়াজ মাহফিল

মাওলানা আমিনুল ইসলাম : আমাদের দেশে যে রকম ওয়াজ মাহফিল হয়, বিশ্বের আর কোন দেশে এ রকম আছে কিনা আমার জানা নেই। সারা বছরই চলে ওয়াজ। তবে শীত মৌসুমে ওয়াজ মাহফিল হয় সব চেয়ে বেশী। শহর থেকে শুরু করে একদম অজপাড়াগাঁ পর্যন্ত ভরে যায় ওয়াজের প্রোগ্রামে।

ওয়াজ মাহফিলকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বেশী গ্যাদারিং হয় মানুষের। আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ ধর্ম প্রাণ। তারা ইসলামকে ভালবাসে।কোরআন হাদীস ভালবাসে। কোরআনের কথা, হাদীসের কথা তারা শুনতে চায়। এ কারনে দেখা যায়, কোথাও ওয়াজ মাহফিলের প্রচার হলে, লোকে -লোকারণ্য। মানুষের উপচে পড়া ভীড়। কোন হৈ- হুল্লোড় থাকেনা সেখানে। একদম নিরব- নিস্তবদ্ধ হয়ে মানুষ বয়ান শোনে।

মানুষ কোরআন – হাদীসের কথা শোনার জন্য সব থেকে বেশী পাগল। আর সেটা হতে হবে কোন আলেমের মুখ থেকে। কোন আলেম যদি বক্তৃতা করেন, মানুষ মনযোগ দিয়ে সেটা শোনে। কখনো কোন অপ্রীতিকর ঘটনা সেখানে ঘটেনা। ভক্তি সহকারে আলেমদের ওয়াজ তারা হদয়ঙ্গম করে নেয়।
কেননা, আলেমগণই কোরআন- হাদীসে পারদর্শি। তারা সব থেকে বেশী কোরআন- হাদীস জানে। কোরআনের অর্থ, কোরআনের তাফসীর- ব্যাখ্যা, আলেমরাই ভাল বলতে পারেন। আলেমগণই কোরআন হাদীস নিয়ে সবচেয়ে বেশী গবেষনা করেন।
তাইতো কোথাও যদি পোষ্টার টানিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে দেখা যাবে, সেখানে মানুষের ভীড় জমে গেছে। দলে দলে লোক জমা হচ্ছে। দুর- দুরান্ত থেকে মানুষ গাড়ী ভরে ভরে একত্রিত হচ্ছে মাহফিলের স্হানে।

কিছু মানুষ আছে তো, তারা ওয়াজ মাহফিলের নিয়মিত স্রোতা। যেখানেই ওয়াজ মাহফিল, তারা সবার সামনে থাকে। ঝড়- তুফান যাইহোক, ওরা কিন্তু আছেই। কোন বাঁধা তারা মানেনা। ঈমানী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এগিয়ে চলে তারা।
এরকম প্রত্যেক এলাকায় থাকে কিছু স্রোতা। তারা ঈমানের বলে বলীয়ান। নিয়মিত আলেমদের ওয়াজ শোনার পাগল। মাহফিলের দাওয়াত পেলে অনেক দরদ আর জযবা নিয়ে ছুটে যায়।

আসলে আমাদের দেশটা ঈমান- ইসলামের উর্বর ভুমি। এরকম উর্বর ক্ষেত আর কোথাও পাওয়া যাবেনা। দ্বীন- ইসলামের ডাক দিলে মানুষ ছুটে আসে পাগল হয়ে। মহব্বত – ভালবাসা নিয়ে জমায়েত হয়। আলেম- উলামার মুখ থেকে কোরআন- হাদীসের বাণী শুনে তাদের হৃদয় ভরে নেয়।

বর্তমানে ওয়াজ মাহফিলের প্রতি যেন মানুষ আরো বেশী ঝুকে পড়েছে। আগের থেকে এখন লোক সংখ্যা অনেক বেশী হচ্ছে।

কয়েকটি প্রোগ্রাম এর নিউজ পেলাম, রেকর্ড পরিমাণ মানুষের উপস্হিতি এখন ওয়াজ মাহফিলে। সস্প্রতি চরোনাই এর পীর সাহেবের প্রোগ্রাম এ স্রোতাদের সংখ্যাধিক্য বেশী মনে হচ্ছে। কিছুদিন আগে জামালপুর জেলাতে চরমোনাই এর নায়েবে আমীর সাহেবের প্রোগ্রাম এর খবর পেলাম। জামালপুরের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশী লোকের সমাগম।

গত বৃহস্পতি বার যশোর ঈদগাহ ময়দানে চরমোনাই এর নায়েবে আমীর সৈয়দ ফয়জুল করীম সাহেবের এক প্রোগ্রাম হয়ে গেল, সেখানেও রেকর্ড পরিমাণ স্রোতা জমায়েত হয়েছে।

শুক্রবার রাজবাড়ীতে কওমী মাদ্রাসা উলামা পরিষদের ওয়াজ মাহফিল ছিল। সেখানেও মানুষের উপচেপড়া ভিড়। ময়দানে যেন তিল ধরনের ঠায় নেই।

এমনি ভাবে সারাদেশের যেখানেই ওয়াজের প্রোগ্রাম হচ্ছে। শুধু মানুষ আর মানুষ। টুপি আর টুপিতে ভরে যাচ্ছে। এসব মানুষ গুলোর কোন চাহিদা নেই। কোন ধান্দা নেই। তারা চায় শুধু ওয়াজ শুনতে।দ্বীনের কথা শুনতে।

এজন্য আমাদের আলেম সমাজের একটু এগিয়ে আসতে হবে। দ্বীনের প্রচার- প্রসারের সুবর্ণ সুযোগ। এরকম বড় জমায়েতের মাধ্যমে সহী দ্বীনের দাওয়াত পৌছানো চাই। নির্ভুল কোরআন – হাদীসের ব্যাখ্যা – বিশ্লেষন হওয়া প্রয়োজন।

কোন তাহকিক ছাড়া, কোন প্রকার কোন ওয়াজ এসব মজলিসে যেন না হয়।

প্রত্যেক আলেমের উচিত তাহকীকের সাথে কথা বলা। না জেনে যেন কোন ওয়াজ করা হয়না। একদম পড়া শুনা করে ওয়াজ করা উচিত। কারো ওয়াজ নকল করা নয়। ওয়াজে কোন অশ্লীল বাক্য ব্যবহার না করা চাই। আরো বেশী অগ্রসর হওয়া দরকার আমাদের, আমলের প্রতি। মানুষকে আমলের প্রতি উৎসাহিত করা। ওয়াজ থেকে বাড়ি ফিরে যেন আমলের প্রতি ঝুকে পড়ে।

গান – গল্প বন্ধ হওয়া চাই ওয়াজ মাহফিলে। কিছু বক্তা তো গান গেয়ে আর গল্প করে সময় পার করেন। কিন্তু স্রোতা যখন বাড়ি ফিরবে, সে কি নিয়ে যাবে? আমলের কথা বললে স্রোতা সেদিকে ঝুকে পড়বে। জান্নাত- জাহান্নামের কথা বললে, জান্নাত পেতে চাইবে, জাহান্নাম থেকে বাঁচতে চাইবে। কিন্তু ওয়াজ মাহফিলে গান গেলে তো , স্রোতা গান গাইতে গাইতে বাড়ী ফিরবে।

ওলামায়ে কেরামের জন্য গণিমত মনে করা উচিত এই ওয়াজ মাহফিল গুলো। এর মাধ্যমে সঠিক দ্বীন প্রচার করা সম্ভব। এর দ্বারা মানুষ দ্বীন ইসলামের প্রতি আরো এগিয়ে আসবে। এজন্য আলেমদের সহী ভাবে, সতর্কতার সাথে দ্বীনের কাজ করা চাই। আল্লাহ তাওফিক দিন। আমিন।

লেখক : শিক্ষক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *