পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : জোর যার মুল্লুক তার নিয়মেই যেন চলছে দেশের নৈরাজ্যবাদীরা। এবার বরগুনার আমতলীতে ধর্ষণ মামলার এক সাক্ষীকে মারধর করে হাত ভেঙে দেওয়া এবং সাক্ষ্য না দিতে নানাভাবে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (০২ মার্চ) সকাল ১০টায় আমতলী রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ভুক্তভোগী নিজাম খান এ অভিযোগ করেন। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।
নিজাম খানের বাড়ি উপজেলার মধ্য আমতলী (কাশমির) গ্রামে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, এক কিশোরীকে ধর্ষণ মামলার সাক্ষী তিনি। মামলাটি বরগুনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্যগ্রহণ চলমান রয়েছে। ওই মামলার আসামি মালেক খান ও তার বড় ভাই মোয়াজ্জেম হোসেন খান তাকে সাক্ষ্য না দিতে ভয়ভীতি প্রর্দশন করেন। সাক্ষ্য দিলে খুন-জখম ও বাড়িছাড়া করার হুমকিও দেন। মোয়াজ্জেম হোসেন খান উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি।
নিজাম খান আরও জানান, হুমকির একপর্যায়ে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন খানের নেতৃত্বে তার ভাই আসামি মালেক খান, সেলিম খান, ভাইয়ের ছেলে জাফর খান, ভাগ্নে সাইদুল, শফিক গাজীসহ বেশ কয়েকজন গত জানুয়ারিতে তার বাড়িতে হামলা চালান। তাকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মাথায় জখম করেন ও দুই হাত ভেঙে দেন।
হামলাকারীরা নিজাম খানের কাছে থাকা ৩১ হাজার টাকা, একটি মোবাইল, নিজাম খানের মেয়ের স্বর্ণের চেন, কানের দুল ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ সময় তার স্ত্রী ও মেয়েকেও মারধর করা হয় বলে জানান নিজাম খান।
সংবাদ সম্মেলনে নিজাম খান আরও জানান, ঘটনার দিন সংবাদ পেয়ে আমতলী থানা পুলিশ পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানে ১০ দিন চিকিৎসার পর অবস্থার উন্নিত না হওয়ায় বরিশালে শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখান চিকিৎসা শেষে অবস্থার একটু উন্নতি হলে গত ২১ ফেব্রুয়ারি আসামি মালেক খানসহ মোয়াজ্জেম হোসেন খান, জাফর খান, শফিক গাজী, সাইদুল আকন সেলিম খানসহ নয়জনের বিরুদ্ধে আমতলী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন তিনি।
মামলা দায়েরের পর আসামিরা মামলা প্রত্যাহার করতে নানাভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন নিজাম খান। মামলাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে মোয়াজ্জেম খান রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করার চেষ্টা করছেন বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে নিরাপত্তা চেয়ে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান নিজাম। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগী সাক্ষী নিজাম খানের স্ত্রী তাসলিমা বেগম ও মেয়ে মাসুমা আক্তার।
/এএ


