বাড়ি সামনে বালু রাখায় হিন্দু বাড়িতে আ’লীগ নেতার হামলা

বাড়ি সামনে বালু রাখায় হিন্দু বাড়িতে আ’লীগ নেতার হামলা

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ট্রাকে করে বালু এনে এক আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ির সামনে রাখায় হিন্দু পরিবারের চার সদস্যকে মারধর ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের মধ্যপাড়া এলাকার‌।

সোমবার (০১ মার্চ) রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

হামলায় আহতরা হলেন- পীযুষ মল্লিক (৪৮), তার স্ত্রী রিতা রানি মল্লিক (৩৭), ছেলে প্রাঞ্জন মল্লিক (৯), বাড়ির কাজের বুয়া পুষ্প রানী (২৭)। অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতার নাম মুসলিম মিয়া। তিনি পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার রাতে ট্রাকে করে বালু এনে আওয়ামী লীগ নেতা মুসলিম মিয়ার বাড়ির সামনের পুকুরের উত্তর ও বাড়ির সামনের রাস্তার দক্ষিণদিকে বালু রাখেন পীযুষ মল্লিক। এ সময় মুসলিম মিয়ার ছেলে সুমন মিয়া ট্রাক চালককে বালু রাখতে বাধা দেন। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে পীযুষকে মারধর করেন সুমন। এ ঘটনার পর পীযুষ ভয়ে বাড়ি চলে যান।

ঘটনার আধা ঘণ্টা পর মুসলিম মিয়ার ছেলে আল মামুন, সুমন মিয়া, তাদের আত্মীয় সদর উপজেলার নাটাই গ্রামের কামাল মিয়াসহ ২০-২৫ জনের একটি দল পীযুষের ভাড়া বাসায় গিয়ে জানালার কাঁচ ভাঙচুর ও দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন। পরে দরজা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে পীযুষকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন তারা। গৃহপরিচারিকা পুষ্পকে রড দিয়ে মাথায় ও ডান হাতে আঘাত করেন হামলাকারীরা। পীযুষকে বাঁচাতে স্ত্রী রিতা রানী, ছেলে প্রাঞ্জন মল্লিক এগিয়ে আসলে তাদেরকে কিল, ঘুষি ও লাথি মারা হয়। এ সময় ঘরের জিনিসপত্র ভাঙচুর করা হয়।

বাড়ির তৃতীয় তলায় বসবাসকারী আইনজীবী মো. আজিজ জানান, গেটে মানুষের হৈ-চৈ শুনে নিচে গিয়ে পীযুষ ও তার স্ত্রীকে মারধর করতে দেখি। তাদের রক্ষায় এগিয়ে গেলে আমাকেও কিল-ঘুষি মারা হয়। হামলাকারীরা পীযুষ অনেক মারধর করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

আহত পীযুষ মল্লিক বলেন, ‘রাস্তায় বালু রাখায় সুমন আমাকে মারধর করেন। পরে আমি বাড়ি চলে আসি। এরপর তারা বাড়িতে এসেও আমাদের ওপর হামলা চালান। এ ব্যাপারে রাতেই আমার স্ত্রী বাদী হয়ে সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।’

এ ব্যাপারে মুসলিম মিয়ার ছেলে মামুন মিয়া বলেন, ‘সন্ধ্যায় বালু রাখার বিষয়ে সুমনের সঙ্গে পীযুষের কথা কাটাকাটি হয়। সুমনকে মারতে উদ্যত হয় পীযুষ। সুমন রেগে পীযুষকে কয়েকটি চর-থাপ্পর মেরেছে। বিষয়টি জিজ্ঞেস করতে দুই-তিনজনকে নিয়ে পীযুষের বাড়িতে যাই। সেখানে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম বলেন, ‘পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

/এএ

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *