পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : কিছুদিন আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ধর্ষণের জন্য নারীর পোশাককে দায়ী করে মন্তব্য করেছিলেন। ইমরানের এই মন্তব্যের প্রতিবাদে দেশটিতে বিক্ষোভ হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার অ্যাক্টিভিস্টি ও সুশিল সমাজের প্রতিনিধিরা এই বিক্ষোভের আয়োজন করেন। প্রতিবাদকারীরা এমন মন্তব্যের জন্য ইমরান খানের ক্ষমা চাওয়ার দাবিও তুলেছেন।
পাকিস্তানের জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই প্রতিবাদ আয়োজন করা হয়। প্রতিবাদের সময় বিক্ষোভকারীদের হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানারে ইমরান খানের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি তুলে ধরা হয়। তাদের দাবি, এমন মন্তব্যে ধর্ষকরা উৎসাহ পাবে।
এক নারী বিক্ষোভকারী বলেন, সাধারণ মানুষ এমন মন্তব্য করলে সেটি তার ব্যক্তিগত মত হিসেবে ধরা যায়। কিন্তু যখন একজন প্রধানমন্ত্রী এমন মন্তব্য করেন তখন সেটি নীতির বহিঃপ্রকাশ। আমরা এমন মন্তব্য অগ্রাহ্য করতে পারি না যা ধর্ষণের দায় নারীর পোশাকের ওপর ফেলে দেয়। আমাদের মতো নারীদের জন্য এটি ভয়ঙ্কর বিপজ্জনক।
সম্প্রতি টেলিভিশনে লাইভ প্রচারিত একটি সাক্ষাৎকারে ইমরান খান ধর্ষণের জন্য নারীর পোশাককে দায়ী করেছেন। তার এই মন্তব্যের পর পাকিস্তানে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
সাক্ষাৎকারে ইমরান খান বলেছেন, ধর্ষণের সংখ্যা বৃদ্ধি ইঙ্গিত দেয় যেকোনও সমাজে অশ্লীলতা বেড়ে যাওয়ার পরিণতি। সমাজে নারীদের ধর্ষণের ঘটনা অনেক দ্রুত বাড়ছে। সাক্ষাৎকারে প্রলুব্ধ করা এড়াতে নারীদের পর্দা করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ইমরান খান বলেন, পর্দার মূল বিষয় হলো প্রলুব্ধ করা থেকে বিরত থাকা। সবার তা অস্বীকার করার ইচ্ছাশক্তি থাকে না।
ইমরান খানের এমন মন্তব্যের পর পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এতে তারা হতবাক হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই মন্তব্য শুধু যে কেন ও কীভাবে ধর্ষণ ঘটছে সেটি সম্পর্কে অজ্ঞতা প্রকাশ করা হয় তা কিন্তু নয়, এর মধ্য দিয়ে ধর্ষণের শিকার নারীদের ওপর দায় বর্তানো হয়।
দেশটির অ্যাক্টিভিস্ট ও রাজনীতিকরা ইমরান খানের মন্তব্যকে প্রকৃত পক্ষে ভুল, সংবেদনশূন্য ও বিপজ্জনক বলে উল্লেখ করেছেন। এক বিবৃতিতে তারা বলেছেন, ধর্ষণের দায় একমাত্র ধর্ষকের এবং যে ব্যবস্থা ধর্ষককে সুযোগ দেয়। এর মধ্যে রয়েছে ইমরান খানের মন্তব্য যে সংস্কৃতিকে প্রশ্রয় দিচ্ছে।


