নবীজী ওফাত দিবসের অজানা কথা
মাওলানাা আমিনুল ইসলাম : এবার রাজবাড়ীতে ঢাকা থেকে এক বক্তা এসে ছিলেন। ভালই ওয়াজ করলেন। কোরআন তেলাওয়াতটা তার অত্যান্ত মধুর। স্রোতাদের হৃদয় ছুঁয়ে যায় তাঁর তেলাওয়াত। বক্তৃতার এক পর্যায়ে সুন্দর এক যুক্তি উপস্থাপন করে ছিলেন। বড় পছন্দ হয়ে ছিল তাঁর যুক্তিটা।
তিনি বলে ছিলেন, ১৫ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবস। ১৯৭৫ সালের এদিনে বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর পরিবার কে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়ে ছিল। যেহেতু বঙ্গবন্ধু ছিলেন স্বাধীনতার স্হপতি। সে হিসেবে এদিনটি সরকার শোক দিবস ঘোষণা করেছে।
১৫ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবস পালন করা হয়। আমাদের সরকারি, বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠান, অফিস- আদালতে সকলেই এ দিনটি গুরুত্বের সাথে নিয়ে থাকে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ এবং তার অঙ্গ সংগঠন গুলো খুবই গুরুত্ব সহকারে এ দিবস পালন করে।
আবার বাংলাদেশে একটা দল আছে, যারা এই জাতীয় শোক দিবস পালন করে না। বরং তারা শোক দিবসের পরিবর্তে তাদের দলের নেত্রীর জন্মদিন পালন করে। বিশাল এক কেক বানিয়ে সেটা কেটে আনন্দ ফুর্তি করে বেড়ায়।
এখন বলুন তো, যেখানে জাতীয় ভাবে শোক দিবস ঘোষনা করল সরকার। সে শোক দিবস পালন করা দুরে থাক, বরং তাদের নেতার জন্মদিন পালন করে আনন্দ ফুর্তি করে বেড়াচ্ছে। এর দ্বারা কি সরকার মহোদয় খুশি হবেন? নিশ্চয়ই খুশি হবেন না। বরং চরম ভাবে অসন্তষ্ট হবে।
বন্ধু একটু ভাল করে চিন্তা করে দেখুন! ১২ রবিউল আউয়াল রাসুল( সাঃ) এর ওফাত দিবস। তিনি এই দিনে ইন্তেকাল করে ছিলেন। এব্যাপারে সকল ঐতিহাসিক গণ একমত। রাসুল ( সাঃ) জন্ম দিনের ব্যাপারে তুমুল মতানৈক্য। কেউ বলেছেন, ৯ রবিউল আউয়াল, কেউ ৩ তারিখ। কিন্তু তাঁর ওফাত হয়েছিল ১২ তারিখ এটার ব্যাপারে কারো দ্বিমত নেই।
এখন কথা হল, আমাদের দেশের কিছু মানুষ, সেই রাসুল( সাঃ) এর নিশ্চিত ওফাত দিবসে তারা জন্ম দিন পালন করছেন। এই দিনে নবী জন্মের আনন্দে মিছিল রেলী বের করে ফুর্তি করে বেড়াচ্ছেন। তাহলে বিষয়টা কেমন হল। নিশ্চয় এটা কোন ভাল কাজ হতে পারে না।
বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর দিনে কেউ জন্মদিন পালন করলে, যেমন আওয়ামীলীগের ভায়েরা খুশি হননা, সরকার খুশি হয় না। ঠিক, রাসুল( সাঃ) এর ইন্তেকালের দিনে তাঁর জন্মদিন পালন করলে, কোন মুমিন বান্দা, এমনকি এই গর্হিত কাজের জন্য আল্লাহ এবং তাঁর পেয়ারা হাবীব( সাঃ) খুশি হবেন না।
ইসলামে কোন দিবস পালন করার বৈধতা নেই। জন্ম দিবস নয়, মৃত্যু দিবসও নয়। বর্তমানে যা কিছু চলছে সব মনগড়া। নিজের মত করে আমরা ইসলাম বানিয়ে ফেলেছি।
রাসুল( সাঃ) এর জন্ম দিবস পালনের যদি কোন বৈধতা থাকত, তাহলে তাঁর জন্ম তারিখ নিয়ে কোন মত বিরোধ থাকত না। কেননা, সেই যুগ থেকে জন্মদিন পালন করার সিষ্টেম চালু থাকলে আর কোন মতানৈক্য হত না।
কিন্তু ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, কোন যুগেই রাসুল( সাঃ) এর জন্মদিন পালন হয়নি। রাসুলের যুগেও নয়। সাহাবীদের যুগেও নয়, তাবেয়ীন, তাবে তাবেয়ীন। কোন যুগে কেউ এটা পালন করেন নি। মায়ের থেকে যেন মাসীর দরদ বেশী। সাহাবী থেকে, তাবেয়ী থেকে আমাদের কিছু লোক খুব দরদ দেখাচ্ছে।
অথচ সাহাবা থেকে কখনো আমরা শ্রেষ্ঠ নই। সাহাবাদের নবী প্রেমের কাছে আমরা কিছু না। একজন সাহাবীর ঈমানের কাছে আমদের অবস্হান একদম ধুলিকণার মত।
সাহাবাগণ উম্মতের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের মর্য্যাদায়। তাদের কে রাসুল( সাঃ) এর সোহবত লাভের যোগ্য করেই পাঠানো হয়েছিল। তারাই রাসুলের সোহবত পাওয়ার যোগ্য ছিল। আমরা সেই সময়ের যোগ্য ছিলামনা বিধায়, রাসুল( সাঃ) এর সোহবত পাইনি। তাই, সাহাবাদের কোন তুলনা কোন কালেই হবে না।
সেই সাহাবীগণ যে কাজ করেননি। সেকাজ আমরা করলে নিঃসন্দেহে শরীয়াতের মধ্যে চোরাগলি সৃষ্টি হবে। যেটা খুবই নিন্দনীয়। এজন্য এসব মনগড়া কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। যেটা শরীয়াতের বিধান নয়, সেটা শরীয়ত বানানো যাবেনা। যে ইবাদত শরীয়াতে নেই, সেটা ইবাদত মনে করাটা বেদআত বলে সাব্যস্ত হবে।
আল্লাহ আমাদের সহী বুঝ দান করুন। আমীন
লেখক : শিক্ষক


