নাটোরে স্কুল যখন বসতবাড়ি!

নাটোরে স্কুল যখন বসতবাড়ি!

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : নাটোরের সিংড়া উপজেলার দামকুড়ি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ১৯৯৩ সালে নির্মাণ করা হলেও আইনি জটিলতায় অবৈধ দখলদাররা সেখানে বসতবাড়ি করে থাকছে বলে জানিয়েছেন সিংড়া সংবাদদাতা। উপরন্তু প্রভাবশালী মহলের চাপে শিক্ষকরা স্কুল ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। জোরপূর্বক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দখল করে বসতভিটা নির্মাণ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয়রা।

স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র মহসিন সরদার, জিয়ারুল ইসলাম, মতিজান, রোজিনাসহ আরও অনেকে জানান, স্কুলটি প্রতিষ্ঠার পর আমরা ক্লাস করেছি। সরকার থেকে ভবন করে দিয়েছিলো। ভবন এখনো রয়েছে। কিন্তু ভবনটি বেদখল থাকায় ভয়ে শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে পারে না। সেখানে ওবায়দুর নামের এক পরিবার বসতভিটা হিসেবে বসবাস করছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও সাবেক পুলিশ সদস্য মোজাম্মেল হক জানান, স্কুলটি গ্রামের জন্য বিশেষ প্রয়োজন। কারণ অত্র এলাকার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দূর দূরান্তে গিয়ে ভর্তি হতে হয়। দূর্গম এলাকা বিধায় অনেক কষ্টে তারা পড়ালেখা করে আসছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯০ সালে গ্রামের জনহৈতষী গড়ে তোলেন দামকুড়ি বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। ৬জন দাতা সদস্য ৩৩ শতাংশ জমি দান করেন। কিন্তু এর মধ্যে জমিদাতা হারান মোল্লা দান করা সে বিদ্যালয়টি নিজের নামে করার জন্য আদালতে মামলা করেন। এর কিছুদিন পর হারান মোল্লা মারা যায়। এরপর স্কুলটি যথারীতি চলমান অবস্থায় ২০১০ সালে হারানের পুত্র ওবায়দুর স্কুলটি দখল করে বসবাস শুরু করে।

এলাকাবাসী জানায়, ওবায়দুরের দু’পুত্র বড় হওয়ায় তাঁর লাঠির জোর বেড়ে যায়। এছাড়া কিছু কুচক্রী মহলের প্ররোচনায় স্কুল দখল করে বসবাস শুরু করে আসছে তারা। কারো কোন বাধা-নিষেধ শুনেনি। কেউ নিষেধ করলে তাকে মারতে উদ্যত হয়। এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও অত্র স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সুলতান আহমেদ জানান, স্কুলটি দীর্ঘদিনের গ্রামবাসীর দাবি। কিন্তু একটি মহল স্কুলের ভবিষ্যৎ নষ্ট করতে পায়তারা করছে। স্কুলের নামকরণ বিষয়ে হারান মোল্লার মামলায় সরকার ডিগ্রি পায়। পরে হারানের পুত্র ওবায়দুর পুনরায় মামলা করে। বর্তমানে মামলাটি চলমান রয়েছে।

স্কুলের শিক্ষিকা শিউলী জানান, দীর্ঘদিন থেকে স্কুলটি পরিচালনা হয়ে আসছে। সম্প্রতি স্কুলের দাতার ছেলে জোরপূর্বক দখল করায় ক্লাস বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে ছাত্র-ছাত্রীরা স্থানীয় মসজিদের ইবতেদায়ী শাখায় ক্লাস করছে। এমন পরিস্থিতির কারণে কেউ কেউ অন্যত্র ক্লাস করছে। ভয়ে স্কুলে আসতে পারে না। গতবার ৫ম শ্রেণির সমাপনি পরীক্ষায় ৫জন পাশ করে অন্যত্র ভর্তি হয়েছে।

স্কুল দখলকারী ওবায়দুর স্কুলের জায়গা নিজের জায়গা দাবি করে বলেন, মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে, আমার ছেলে লেখাপড়া করছে, তাকে যদি স্কুলে চাকুরি দেয়া হয় তাহলে বিষয়টি সমাধান করা হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মঈনুল হাসান জানান, স্কুলের ভবন দখল হওয়ায় স্বাভাবিক কার্যক্রম নাই। গতবারও বই দেয়া হয়েছিলো।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *