নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি ● এক মাদকের কারবারিকে গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যে নারায়ণগঞ্জের একটি খাল থেকে বিপুল সংখ্যক সাবমেশিন গান, রকেট লঞ্চার ও গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারুক হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার রাতে রূপগঞ্জের পূর্বাচল আবাসিক এলাকার ৫ নম্বর সেক্টরে তাদের এই অভিযান শুরু হয়। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ওই খাল থেকে ৬২টি এসএমজি, দুটি রকেট লঞ্চার, পাঁচটি পিস্তল ও কয়েক বাক্স গুলি উদ্ধার করেছেন বলে পুলিশ সদরদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (গোপনীয় শাখা) মো. মনিরুজ্জামান জানান। তিনি বলেন, অস্ত্রগুলো প্যাকেট করে খালের পানির নিচে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। আমাদের তল্লাশি এখনও চলছে।
রূপগঞ্জ থানার ওসি ইসমাইল হোসেন জানান, গোপন খবরের ভিত্তিতে গত বুধবার বিকালে দাউদপুর ইউনিয়নের বাগলা এলাকায় শরিফ নামের একজনের বাড়িতে অভিযানে যায় পুলিশ। শরিফ সে সময় পালিয়ে গেলেও তার বাড়িতে একটি এসএমজি ও বেশ কিছু ইয়াবা পায় পুলিশ। এরপর বৃহস্পতিবার বিকালে শরিফকে ফতুল্লা থেকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ রাতে পূর্বাচল আবাসিক এলাকার ৫ নম্বর সেক্টরে ওই খালপাড়ে ফের অভিযানে যায় বলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারুক হোসেন জানান। পুলিশের ডাকে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা এই অভিযানে যোগ দেন। খালের পানিতে ডুব দিয়ে অস্ত্রের প্যাকেট তুলে আনতে থাকেন তারা। পাঁচজন ডুবুরি এই অভিযানে অংশ নিচ্ছেন বলে ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা পলাশ চন্দ্র মোদক জানিয়েছেন।
প্রাথমিকভাবে পুলিশ কর্মকর্তারা এম-সিক্সটিন রাইফেল পাওয়ার খবর দিলেও পরে তারা জানান, সেগুলো এসএমজি। এ অভিযানে তিনজনকে আটকের কথা জানালেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করেননি পুলিশ কর্মকর্তারা। এদিকে অস্ত্র উদ্ধারের খবর পেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী এবং পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক ঘটনাস্থলে যান। আইজিপি পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত হবে। এখনই বিস্তারিত কিছু বলা যাবে না। এই অস্ত্রের মজুদের পেছনের জঙ্গি সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, গতরাতে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পর থেকে তার তথ্যের ভিত্তিতে অস্ত্রগুলো উদ্ধার হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কারা কী উদ্দেশ্যে এই গোলাবারুদ মজুদ করেছে তা জানতে তদন্ত হচ্ছে জানিয়ে আইজিপি বলেন, এই চক্রের হাতে আরও অস্ত্র-গোলাবারুদ আছে কিনা তা খুঁজে দেখা হচ্ছে।


