নারীদের স্বাবলম্বীর পথ দেখাচ্ছে এসআর সংস্থা

নারীদের স্বাবলম্বীর পথ দেখাচ্ছে এসআর সংস্থা

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : মানুষ কথায় বলে ‘ছাগলে কি না খায়।’ বাংলার কালো ছাগলের ক্ষেত্রে কথাটা একেবারে ঠিক। মাঠে ছেড়ে পুষলে ছাগল তার খাবারের ৭০ ভাগ নিজেই জোগাড় করে নেয়। সঙ্গে অল্প দানাদার খাবার দিলেই যথেষ্ট। অল্প জায়গা লাগে। রোগব্যাধি কম হওয়ায় ঝুঁকি কম। সুস্বাদু, পুষ্টিকর মাংসের জন্য চাহিদা বেশি। মল-মূত্র উন্নত মানের জৈব সার। সব মিলিয়ে বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে খাবার, পরিচর্যা, রোগ প্রতিরোধ ও প্রজনন করালে ছাগল পালনে লাভ সুনিশ্চিত।

এমন বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে বিনামূল্যে ছাগল দিয়ে দুস্থ নারীদের পাশে দাড়িয়েছেন বরিশাল সদর উপজেলার সালাহউদ্দিন রিপন। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক উপকমিটির সদস্য এবং চরবাড়িয়া ইউনিয়নের বাটনা গ্রামের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘এসআর সমাজকল্যাণ সংস্থা’র প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান তিনি। নারীদের স্বাবলম্বী করতে শুধু ছাগল কিংবা জটিল অস্ত্রোপচারের খরচ দিয়ে তিনি শুধু প্রবীন নাগরীকদের দৃষ্টিই ফেরাননি, তাদেরকে স্বাবলম্বী হতে সাহায্যের হাতও বাড়িয়ে দিয়েছেন। করোনাকালে সদর উপজেলার ৯০টি ওয়ার্ডের অন্তত ৩৪ হাজার নারী-পুরুষকে খাদ্য সহয়তা করেছেন।

২৫ হাজার নারী পাচ্ছেন ছাগল : করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে বরিশাল সদর উপজেলার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের অন্তত ২৫ হাজার নারীর মধ্যে এসআর সংস্থা ছাগল বিতনের উদ্যোগ নেয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সালাহউদ্দিন রিপন ১৯ ফেব্রুয়ারি বাটনা গ্রামের এসআর সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে ছাগল বিতর কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন। ৭০জন নারীর মাঝে বিনামূল্যে একটি করে ছাগল বিতরন করেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, হাস-মুরগী পালনের জন্য প্রায় ২৫ হাজার নারীকে নগদ দুই থেকে তিন হাজার টাকা করে দিয়েছিলাম। কিন্তু তাদের অধিকাংশই সেই টাকা খরচ করে ফেলেছেন। তাই এবার ছাগল কিনে তাদের ঘরে ঘরে পৌছে দিচ্ছি।

আরও পড়ুন: প্রবাসীদের পুনর্বাসনে ৭০০ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে সরকার

সালাহউদ্দিন রিপন আরো বলেন, সংস্থার কর্মীরা নিয়মিত খোজ রাখছেন। পশু চিকিৎসক নিয়মিত ছাগল গ্রহীতাদের বাড়ি বাড়ি যেয়ে ছাগলের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছেন। এতকিছুর পেছনে সংস্থার একটি উদ্দেশ্য, আর সেটি হচ্ছে যাতে করে ছাগলে তাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।

সংস্থার কোষাধক্ষ্য এইচ এম আলাউদ্দিন বিপ্লব বলেন, উদ্বোধনের পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১১টি ওয়ার্ডে ২০০ জন নারীর মধ্যে ছাগল বিতরন করা হয়েছে। চাহিদার তুলনায় ছাগলের সরবরাহ কম থাকায় বিতরন কার্যক্রমে গতি আসছে না।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *