পাথেয় রিপোর্ট : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কার কোনো কারণ নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, নির্বাচনের নিরাপত্তায় সকল ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে নির্বাচন কমিশন। ভোটারদের নিরাপত্তায় সকল বাহিনী মোতায়েন থাকবে। তারপরও প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১ ডিসেম্বর শনিবার সকালে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে সরকারি কর্মকর্তাগণের প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম একথা বলেন।
প্রকাশ্যে ভোট দেওয়া বেআইনি উল্লেখ করে ইসি রফিকুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড অনুমোদন না দেওয়ার নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, আপনারা কাউকে ব্যালট পেপার দিয়ে দিলেন। উনি গোপন কক্ষে না গিয়ে প্রকাশ্যে ভোট দিলেন। আমার ভোট আমি প্রকাশ্যে দিয়েছি, অসুবিধা কী—এ কথা অনেকেই বলতে পারেন। যেহেতু আইনে এটা পারমিট করে না, আপনারাও অ্যালাউ করবেন না। আপনাদের প্রশিক্ষণার্থীকেও (প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা) বলবেন, ডোন্ট অ্যালাউ ইট। কারণ, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বেআইনি এবং এগুলো নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ইসি রফিকুল বলেন, নির্বাচনের দিন পত্রিকা, টেলিভিশনে আমরা দেখতে পাই, একজন ভোটার এসে বলছে, আমার ভোটটা দেওয়া হয়েছে গেছে। যদি নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তারা ঠিকমতো তাঁর কাজটা করেন, তাহলে একজনের ভোট আরেকজনের দেওয়ার কথা নয়। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আইনে ভোট দেওয়া হয়ে গেলেও ভোট দেওয়ার কিন্তু বিধান আছে। যদি আপনি সেটিসফায়েড হন, সে সত্যিকার অর্থে ভোটার, তার ভোটটা অন্য কেউ দিয়ে গেছে। জাস্ট অ্যালাউ হিম উইদাউট এনি কোশ্চেন। আপনারা যদি আইনটাকে ফলো করেন, তাহলে আর নির্বাচনকে কেউ প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারবে না।
ইসি বলেন, আপনারা যদি কাজগুলো করতে পারেন, তাহলে আমরা কি ভোট দিতে পারব, নাকি আগেই আমার ভোটটা দেওয়া হবে—এই শঙ্কা কি থাকতে পারে? আপনারা কী মনে করেন? এই শঙ্কাটা কি থাকতে পারে যে আমি কেন্দ্রে গিয়েও ভোট দিতে পারব না। কেন্দ্রে এলে পরে আপনারা ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন।
ইসি রফিকুল ইসলাম বলেন, কেন্দ্রে আসতে পারবে কি না, কেন্দ্রে গেলে তো ভোট দেব—এ রকমও প্রশ্ন আসছে। এর জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছে। দরকার হলে আমরা আরও ব্যবস্থা নেব যাতে করে ভোটাররা ভোট দিতে কেন্দ্রে আসতে পারেন। তারপরও যদি কোনো অ্যাক্সিডেন্ট হয়, তাহলে আপনাদেরকে কথা দিচ্ছি আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেব। নির্বাচন কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষ আচরণের তাগিদ দিয়ে কমিশনার বলেন, কোনো প্রার্থী বা দলের পক্ষে মাঠ দখলের চেষ্টা হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেবেন।


