নীলক্ষেতে তৈরি হত এসএসসি থেকে মাস্টার্সের সার্টিফিকেট

নীলক্ষেতে তৈরি হত এসএসসি থেকে মাস্টার্সের সার্টিফিকেট

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : এসএসসি থেকে মাস্টার্স সবধরণের সার্টিফিকেট তৈরি করতের তারা। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। রাজধানীর নিউমার্কেট থানা এলাকার নীলক্ষেত থেকে অবৈধভাবে জাল সার্টিফিকেট তৈরির সঙ্গে জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ সরঞ্জামাদি ও এসএসসি, এইচএসসিসহ বিভিন্ন পরীক্ষার জাল সার্টিফিকেট উদ্ধার করেছে র‌্যাব-২ ।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন- মো. রাকিব হাসান (২৩) ও মো. মোবারক হোসেন জনি ওরফে হৃদয় (২৫)। র‌্যাব-২ এর সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি ) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, সম্প্রতি রাজধানী ঢাকায় এক ধরনের অসাধু প্রতারকচক্র দীর্ঘদিন ধরে কম্পিউটারের সাহায্যে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, আনার্স/ডিগ্রি, মাস্টার্স ইত্যাদি পর্যায়ের বিভিন্ন ভুয়া সার্টিফিকেট ও মার্কশিট তৈরি করে উচ্চমূল্যে বিক্রি করে আসছে। উক্ত সার্টিফিকেট ও মার্কশিট বিভিন্ন প্রতারক ক্রয় করে তা দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে আসছে।

তিনি জানান, র‌্যাব-২ এর আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, রাজধানীর নিউমার্কেট থানাধীন নীলক্ষেত এলাকায় বাকু শাহ হর্কাস মাকেটস্থ ভার্সিটি মাল্টি কালার নামক দোকানে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার সমূহের মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, অনার্স/ডিগ্রি, মাস্টার্স পর্যায়ের বিভিন্ন ভুয়া সার্টিফিকেট ও মার্কশিট তৈরি করে তা উচ্চমূল্যে বিক্রি করছে।

মো. আবদুল্লাহ আল মামুন আরও জানান, এমন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-২ এর আভিযানিক দল গতকাল বুধবার রাতে অভিযান পরিচালনা করতে যায়। এসময় উক্ত দোকানে উপস্থিত হলে মো. রাকিব হাসান মোবারক হোসেন জনি ওরফে হৃদয়কে (২৫) কম্পিউটারে জাল সার্টিফিকেট তৈরি করার সময় দেখতে পেয়ে হাতেনাতে বিভিন্ন বোর্ডের জাল এসএসসি ও এইচএসসি সার্টিফিকেটসহ গ্রেপ্তার করে।

প্রাথমিক অনুসন্ধান ও গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র‌্যাব জানায়, তারা নিজেদের কম্পিউটারে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন সার্টিফিকেট ডাউনলোড করে ফটোসপ সফটওয়্যার ব্যবহার করে অবৈধভাবে লাভবান হওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে জাল সার্টিফিকেট তৈরি করে আসছে।

তৈরিকৃত জাল সার্টিফিকেসমূহ বিভিন্ন সরকারি ও প্রাইভেট কোম্পানির বিভিন্ন পদে চাকরির জন্য লোকজনের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে তৈরি করতেন তারা। তাদের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে র‌্যাব।

/এএ

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *