নীল অন্তর্বাস ও টয়লেট ব্রাশে পুতিনবিরোধী বিক্ষোভ

নীল অন্তর্বাস ও টয়লেট ব্রাশে পুতিনবিরোধী বিক্ষোভ

নীল অন্তর্বাস ও টয়লেট ব্রাশে পুতিনবিরোধী বিক্ষোভ

পাথেয় টোয়েন্টিফের ডটকম :: রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও তাঁর সরকারের দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে রুশ জনগণের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন দেশটির বিরোধী নেতা অ্যালেক্সি নাভালনি। তাঁকে গ্রেপ্তারের পর থেকে বিক্ষোভ জোরদার হচ্ছে। রোববার দেশব্যাপী পুতিনবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। নাভালনির মুক্তি দাবির এ বিক্ষোভ হয়ে উঠেছে সৃজনশীল। এ বিক্ষোভের যেন প্রতীক হয়ে উঠেছে নীল রঙের অন্তর্বাস, শৌচাগার পরিষ্কারের ব্রাশ, স্নো বল ও তুষারের তৈরি গ্রাফিতি।

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, নাভালনির যে অন্তর্বাসে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল, তা ছিল নীল রঙের। গত ডিসেম্বর থেকেই বিক্ষোভের সময় নীল রঙের বক্সার (অন্তর্বাস) সড়কে সংকেতবাতির খুঁটিতে ঝুলিয়ে দিচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। এসব ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েও দেওয়া হচ্ছে।

নাভালনি এক ভিডিও বার্তায় সম্প্রতি অভিযোগ করেছেন, কৃষ্ণসাগরপারে পুতিনের বিলাসবহুল কমপ্লেক্স রয়েছে। এই কমপ্লেক্সে কী কী রয়েছে, তারও একটি ফিরিস্তি তুলে ধরেছেন তিনি। তাঁর দাবি, ওই কমপ্লেক্সের বাজারমূল্য প্রায় ১৩৫ কোটি মার্কিন ডলার (১১ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা)। এ তথ্য খুব বেশি টানেনি রাশিয়ার জনগণকে। টেনেছিল আরেকটি তথ্য। সেটি হলো ওই কমপ্লেক্সের শৌচাগার পরিষ্কারে ব্যবহার করা হয় ৬১৯ ডলার (৫২ হাজার ৬১৫ টাকা) মূল্যের ব্রাশ। ফলে টয়লেট ব্রাশ হয়েছে চলমান বিক্ষোভের প্রতীক।

বিক্ষোভ দমনে পুলিশ যেমন তৎপর, তেমনি পুলিশ ঠেকাতে বিক্ষোভকারীরাও তৎপর। এ জন্য তুষার কাজে লাগাচ্ছেন তাঁরা। পুলিশকে প্রতিহত করতে তাঁরা তুষারের বল ছুড়ে মারছেন। এমনকি রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিসের (এফএসবি) সদস্যদের লক্ষ্য করেও এমন স্নো বল ছুড়ে মারা হচ্ছে। রাশিয়ার বার্তা সংস্থার খবরে বলা হয়েছে, স্নো বলের আঘাতে এফএসবির কয়েকটি গাড়ির কাচ ভেঙে গেছে। এক গাড়িচালক আহতও হয়েছেন। এ ছাড়া তুষার দিয়ে গ্রাফিতিও তৈরি করছেন বিক্ষোভকারীরা।

নাভালনির মুক্তির দাবিতে তৈরি হয়েছে বিক্ষোভ সংগীতও। ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপ টিকটকে এমন একটি গান ছড়িয়ে পড়েছে।
রোববারও সারা দেশে বিক্ষোভ হয়েছে নাভালনির মুক্তির দাবিতে। চলমান বিক্ষোভে দেশটির তরুণেরা যেমন অংশ নিচ্ছেন, তেমনি প্রবীণেরাও যোগ দিচ্ছেন। যখন এই বিক্ষোভ শুরু হয়, তখন মস্কোর তাপমাত্রা মাইনাস ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মস্কো থেকে নাভালনির স্ত্রী ইউলিয়া নাভালনায়াকে আটক করা হয়েছে।

তুষারপাত ও গ্রেপ্তারের হুমকি উপেক্ষা করে সাইবেরিয়া ও দেশটির ফার-ইস্ট অঞ্চলে বিক্ষোভ হয়েছে। এ ছাড়া মস্কোসহ অন্যান্য শহরেও বিক্ষোভ হয়। নাভালনির মুক্তির দাবি জোরদার করতে এবং সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে এ বিক্ষোভ চলছে।
বিক্ষোভের সূচনা দেশটির ভ্লাদিভস্তক শহরে। বাংলাদেশ সময় সকাল আটটায় সেখানে বিক্ষোভ শুরু হয়। তবে শুরুতেই বিক্ষোভকারীদের বাধায় দেয় পুলিশ। ভ্লাদিভস্তকে যখন এ বিক্ষোভ শুরু হয়, তখন সেখানকার তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ শহর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১০০ জনের বেশি বিক্ষোভকারীকে।

সাইবেরিয়ার টমস্ক শহরের বিক্ষোভকারীরা রাশিয়ার পতাকা হাতে নিয়ে মিছিল করেন। এ সময় তাঁরা স্লোগান দেন ‘নাভালনিকে মুক্তি দাও’। সাইবেরিয়ার আরেক শহর ইয়াকুস্তকে যখন বিক্ষোভ হয়, তখন সেখানকার তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *