ন্যূনতম মজুরির গেজেট প্রকাশ, আনন্দিত পোশাক শ্রমিকরা

ন্যূনতম মজুরির গেজেট প্রকাশ, আনন্দিত পোশাক শ্রমিকরা

পাথেয় রিপোর্ট : বহু আন্দোলনের ফসল হিসেবে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি আট হাজার টাকা ধরে গেজেট প্রকাশ পেয়েছে। স্বভাবতই আনন্দে জোয়ার এখন পোশাক শ্রমিকদের ঘরে। আজকাল যে সবকিছুর দাম বেড়েছে ওই তুলনায় আট হাজার টাকা দিয়েই সারা মাস চলা কঠিন।

পোশাক শ্রমিকদের প্রতি এটা অনেক একটি অনুগ্রহ হবে বলে মনে করছেন পোশাক শিল্প গবেষকগণ। দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি আট হাজার টাকা নির্ধারণ করে গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার।

পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা ঘোষণা

এতে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিকের মজুরি এখনকার চেয়ে ৫১ শতাংশ বাড়ল। সর্বশেষ ২০১৩ সালের ১ ডিসেম্বর ৫ হাজার ৩০০ টাকা ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করে দেওয়ার পর সেই হারে বেতন পাচ্ছিলেন শ্রমিকরা।

নতুন বেতন কাঠামোর দাবিতে আন্দোলনের মুখে গত ১৩ সেপ্টেম্বর পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি আট হাজার টাকা করার কথা জানান শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু। তবে ওইদিন নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

নতুন করে পোশাক শ্রমিকদের জন্য সাতটি ও কর্মচারীদের জন্য চারটি গ্রেড নির্ধারণ করা হয়েছে।

শ্রমিকদের সপ্তম গ্রেডে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে আট হাজার টাকা। এরমধ্যে মূল মজুরি চার হাজার ১০০ টাকা, বাড়ি ভাড়া দুই হাজার ৫০ টাকা, চিকিৎসা ভাতা ৬০০ টাকা, যাতায়াত ভাতা ৩৫০ টাকা, খাদ্য ভাতা ৯০০ টাকা।

শ্রমিকদের প্রথম গ্রেডে মজুরি ধরা হয়েছে ১৭ হাজার ৫১০ টাকা।

শিক্ষানবিশ শ্রমিকরা মাসে সর্বসাকুল্যে পাঁচ হাজার ৯৭৫ টাকা পাবেন, শিক্ষানবিশকাল হবে তিন মাস।

অন্যদিকে পোশাক শিল্পের কর্মচারীদের চতুর্থ গ্রেডে আট হাজার ৩৭৫ টাকা ও প্রথম গ্রেডে ১৪ হাজার ৭৫ টাকা ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে।

শিক্ষানবিশ কর্মচারী মাসে সব মিলিয়ে ছয় হাজার ১৬৪ টাকা পাবেন, শিক্ষানবিশকাল হবে ছয় মাস।

পোশাক শ্রমিকরা দ্বিতীয় গ্রেডে ১৪ হাজারে ৬৩০ টাকা, তৃতীয় গ্রেডে ৯ হাজার ৫৯০ টাকা, চতুর্থ গ্রেডে ৯ হাজার ২৪৫ টাকা, পঞ্চম গ্রেডে ৮ হাজার ৮৫৫ টাকা ও ষষ্ঠ গ্রেডে ৮ হাজার ৪০৫ টাকা পাবেন।

অন্য পোশাক কর্মচারীরা দ্বিতীয় গ্রেডে ১১ হাজার ৩০০ টাকা ও তৃতীয় গ্রেডে ১০ হাজার ৭৭৫ টাকা ন্যূনতম মজুরি পাবেন।

সব গ্রেডেই মূল মজুরি ও বাড়ি ভাড়া ভাতা ছাড়াও ন্যূনতম মোট মজুরির মধ্যে ৬০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা, ৩৫০ টাকা যাতায়াত ভাতা ও ৯০০ টাকা খাদ্য ভাতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

গেজেটে বলা হয়েছে, কোনো শ্রমিককে এই ন্যূনতম মজুরির চেয়ে কম মজুরি দেওয়া যাবে না। এই মজুরির চেয়ে বেশি হারে মজুরি দিলে তা কমানোও যাবে না।

শ্রমিকরা প্রতি বছর মূল মজুরির পাঁচ শতাংশ হারে মজুরি বৃদ্ধির সুবিধা পাবেন। মালিকরা এ সুবিধা দিতে বাধ্য থাকবেন বলেও গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *