পাথেয় রিপোর্ট : নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা নিজেদের পছন্দের পিএস না পেলেও এপিএস (সহকারী একান্ত সচিব) পাবেন পছন্দ মতো।পছন্দের ব্যক্তিকে সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) হিসেবে নিয়োগ দিতে পারবেন তারা।
বৃহস্পতিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে নিজ দফতরে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা পছন্দের ব্যক্তিকে এপিএস হিসেবে নিয়োগ দিতে পারবেন। তবে এখন থেকে পিএস সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া হবে।’তবে এবার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকেই ঠিক করে দেওয়া হয়েছে- কার পিএস কে হবেন।
তিনি বলেন, ‘মধ্যম আয়ের দেশে পৌঁছাতে সময়ের প্রয়োজনে যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের স্বার্থে যাচাই-বাছাই করে সৎ, যোগ্য এবং পরীক্ষিত কর্মকর্তাদের একান্ত সচিব নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আশা করছি আগামীতে এই নতুন ব্যবস্থাটিই বহাল থাকবে।’
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার দুটি আদেশে উপসচিব পদমর্যাদার ৪৫ জন এবং জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব পদমর্যাদার এক কর্মকর্তাকে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের পিএস নিয়োগ দিয়ে ওই আদেশ জারি করে।
পিএস পদে সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে থেকে নিয়োগ দেওয়া হলেও এপিএস হিসেবে নিজেদের পছন্দে যে কাউকে নিয়োগ দিতে পারেন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। শুধু খেয়াল রাখতে হয়, এপিএস যিনি হচ্ছেন, তার যেন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তার পদে আবেদন করার ন্যূনতম যোগ্যতা থাকে।
গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া নতুন মন্ত্রিসভার ৪৬ জন সদস্যের প্রত্যেকের জন্য একান্ত সচিব (পিএস) নিয়োগ দেয় সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত দুটি আলাদা আদেশ জারি করে।
এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছা অনুযায়ী এবার মন্ত্রিসভার সদস্যদের মতামত ছাড়াই পিএস নিয়োগ দেয়া হয়েছে। মূলত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের তদারকির অংশ হিসেবে অনেক ভেবেচিন্তে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
তবে সিনিয়র সহকারী সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তারা মন্ত্রিসভার সদস্যদের এপিএস হতে পারেন। কিন্তু এপিএস নিয়োগ দেয়ার বিষয়টি মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের সম্পূর্ণ ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল বলেও জানান ওই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা নিজেদের পছন্দের পিএস না পেলেও এপিএস (সহকারী একান্ত সচিব) পাবেন পছন্দ মতো।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের পিএস হিসেবে উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হয়। এছাড়া মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা পছন্দ মতো পিএস নিয়োগ দিতে পারতেন। তবে সে কর্মকর্তা প্রথম শ্রেণির পদমর্যাদার নিচে হত না।
তবে সিনিয়র সহকারী সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তারা মন্ত্রিসভার সদস্যদের এপিএস হতে পারেন। কিন্তু এপিএস নিয়োগ দেয়ার বিষয়টি মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের সম্পূর্ণ ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, মন্ত্রিসভার সদস্যরা সাধারণত রাজনৈতিক বিবেচনায় এপিএস নিয়োগ দিয়ে থাকেন। তিনি আরও বলেন, মন্ত্রিসভার সদস্যরা পছন্দ মতো এপিএস নিয়োগ দিতে আধা সরকারি পত্র দিলে সেটার ওপর ভিত্তি করে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
বিভিন্ন সময়ে এপিএসদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীদের সমালোচনার মুখে পড়তে দেখা গেছে। এপিএসদের ‘নিয়োগ বাণিজ্য’ ও অনিয়মে জড়িয়ে পড়ার খবর বিভিন্ন সময়ে সংবাদ শিরোনাম হয়েছে। বিতর্ক এড়াতে এর আগে কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে নিজের সন্তাকে এপিএস হিসেবে নিয়োগ দিতে দেখা গেছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিজের হাতেই রেখেছেন। বুধবার মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের হুঁশিয়ার করে তিনি বলেছেন, কাজের ক্ষেত্রে যেন কোনো গাফিলতি না হয়, সেজন্য নজর রাখবেন তিনি।
এ প্রসঙ্গ টেনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা যে প্রধানমন্ত্রীর নজরদারিতে থাকবেন, তা এবার পিএস নিয়োগ দেওয়ার ধরন দেখেই বোঝা যাচ্ছে।”


