পথে পাওয়া কবিতা | আসাদ আহমেদ
১.
প্রবৃত্তি আমায়ও তাড়ায় যেমন স্বচ্ছন্দ মেঘ
বিবসন দেহ মুখোমুখি কেন নগ্ন আকাশের!
কী অর্থ খুঁজছি ও পরম এতসব অপ্রয়োজনে
সঞ্চয় কিছুই নাই ইহকালের পরকালের
সঞ্চরণশীল মেঘে মেঘে ছড়িয়েছি এই মন
বৃষ্টিতে বৃষ্টিতে ছড়াচ্ছে মন-জমাট-মেঘ-ভার
আজব রূপের মুখোমুখি আমি-তুমি-হাহাকার
ঘণ্টা শেষে সব সবাই ফিরে চলছে ঘরে ঘরে
কেন যে বিভ্রমে ফিরতে পারি না ঘরে অবসরে
গান বাজছে আকাশে-মাটিতে সুরে-লয়ে-শৃঙ্গার
অথচ অঙ্গার ছড়ানো ঘরে-অফিসে-নদীতেও
কী করে ভুলি পোড়া মুহূর্ত, যদিও উঠছে সূর্য
শৃঙ্গার-আগুন-নদী কিছু নয় এই স্বভাবের—
অজানিতে ফুটে ফুল, বাজছে গান মেঘে-বাতাসে
২.
পরিতাপ কিছু নেই তবে ঘুড়ি উড়ে উড়ে ঠেকে
গেছে বিদ্যুৎ খুঁটিতে, তড়িৎ চলে যাব এমনও না—
কেন যে বিভ্রমে শিমুলের তুলো ভাসছে বাতাসে
মিলাতে পারি না এই আর ওই পারের সংকট
হাট ভাঙা মানুষেরা ফিরছে ঘরে—পাশেই নদী
আমার স্বভাব ভেঙে আছে নদী ও মাটিতে আজ
কোলাহল থেকে নিঃশব্দতা থেকে মুক্তি পাবে তুমি!
ব্যর্থতায় জড়িয়ে আছে দোটানা ও নতুন শব্দ!
কেন যে বারবার হিসাব মেলাতে চাও অথচ
সকল হিসাব-কানুন উড়ছে অনর্থ অভ্যাসে
অভ্যাস ভেঙে জড়তা ভেঙে জ্যোৎস্নায় বনে কেউবা—
অথচ অদৃশ্যের খেলার পুতুল হচ্ছো তুমিও—
জানালা দরজা ভেঙে কোন পৃথিবীতে যাবে আজ!
নদী-সমুদ্র একই স্বভাবে শুয়ে আছে সর্বত্র।


