পরকীয়া প্রভাবে ভেঙে পড়বে ভারতীয় সমাজ : মাওলানা রাহমানী

পরকীয়া প্রভাবে ভেঙে পড়বে ভারতীয় সমাজ : মাওলানা রাহমানী

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম (নয়াদিল্লী) : সম্প্রতি ভারতে পরকীয়া আইন বিল পাস হওয়ায় মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ রাহমানী বলেন, হিন্দুস্থান এমন একটি রাষ্ট্র যেখানে বহু জাতপাত একসঙ্গে বসবাস করে। তাদের অধিকাংশই ধর্ম ও নিজস্ব মতাদর্শে গভীর বিশ্বাসী। তাই ভারতে এই ধরনের সিদ্ধান্ত ভারতীয় সভ্যতা ও এখানকার ঐকমত্যের বিরোধী। মানুষের দৈনন্দিন জীবনে স্বাভাবিক অপ্রীতিকর একটি বিষয়কে বৈধতা দিয়ে বিবাহিত পুরুষ বা নারীকে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে যাবার পথ করে দেয়া হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে এ নিরাপত্তাও দেয়া হয়েছে যে এতে কোনও অপরাধ নেই। তাই পরকীয়া বৈধতায় এমন সিদ্ধান্ত ভারতীয় সুন্দর সমাজ গঠনের মূলে চরমভাবে কুঠারাঘাত করেছে।
এ আইনের কারণে এখন বিবাহবন্ধনে শৈথিল্য চলে আসবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনর্থক বিবাহবিচ্ছেদ ঘটতে পারে প্রতিনিয়তই। বংশীয় কৌলীন্যও ধসে পড়বে। তবে সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো পরকীয়া বিশ্বাসে এসব অন্ধকার হৃদয়ের নারী পুরুষেরা হয়তো আরো বড় কোনও অপরাধের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তাই প্রশাসনের উচিৎ খুব দ্রুত এ রায়কে নিষ্ক্রিয় করে দেয়া। শুধুমাত্র গুটিকয় লোকের মনোবাসনা পূর্ণ করতে গিয়ে পুরো সমাজের সত্যকে হত্যা করে কখনোই আইনসিদ্ধ নয়। যদিও পশ্চিমা সভ্যতায় এধরনের আইন প্রয়োগ হয়ে থাকে। কিন্তু ভারতের ৯৮-৯৯ ভাগ মানুষের এটিতে স্পষ্ট অসমর্থন পরিলক্ষিত। তাই এ আইন প্রণয়ন করে তা সার্বজনীনভাবে প্রয়োগ করা কখনোই যৌক্তিক ও ফলপ্রসূ নয়।

বাবরী মসজিদ মামলার চলমান রায়ের ব্যাপারে নিজের মতামত স্পষ্ট করে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের সেক্রেটারী ও মুখপাত্র মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ রহমানি বলেন, বাবরী মসজিদ মামলায় সুপ্রিমকোর্টের এ রায় জায়গার মালিকানার ভিত্তিতে দেয়া হবে নাকি আস্থা ও বিশ্বাসের ভিত্তির উপর!

এখানে অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো এই এবং শুরু থেকেই এটি বোর্ড থেকে জানানো হয়েছে যে, এই মামলার ফায়সালা মালিকানার ভিত্তিতে করা হবে। যে, এটি কি সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড উত্তর প্রদেশের অধিকারে নাকি এইসব লোকের। যারা এটিকে রামের জন্মভূমি বলে দাবী করে আসছে! কেননা, কোর্টের কাজ এটি নয় যে কোর্ট বিশেষ গুণী ব্যক্তির জন্মস্থানের উপর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। আর হ্যাঁ! এ বিষয়ে কিন্তু খোদ হিন্দু ধর্মের প্রধান গ্রন্থাবলীতেই ওই জায়গাটি যে রামের জন্মভূমি! তার কোনও উল্লেখ নেই। ইতিহাসেও এর কোনও সত্যতা পাওয়া যায়নি।

তাই এই ঝামেলাপূর্ণ একটি বিষয়ে আদালতের দ্বন্দ্বের ভেতর পড়ে যাওয়া সমীচীন নয়। বরং সরকারি নথিপত্র ও রেকর্ডের আলোকে এই সিদ্ধান্তে আসতে হবে যে, এটি সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের অধিকারে কি না? এ ব্যাপারে বোর্ডের পূর্ণ আস্থা আছে যে, যদি আদালত এখানে সঠিক তদন্ত করে এবং এ বিষয়ে সত্যিই মনোযোগী হয় তাহলে এ রায় আমাদের পক্ষেই আসবে।

অনুবাদ ও গ্রন্থনা : কাউসার মাহমুদ
তথ্যসূত্র : ডেইলি হামারা সামাজ,উর্দু
সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *