পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : তেলের দাম বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে পরিবহনের ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে গণপরিবহন বন্ধ ঘোষণা করেছে মালিক-শ্রমিকরা। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। সরকার বুধবার মধ্যরাত থেকে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানোর পর বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) ধর্মঘটে যাওয়ার ঘোষণা আসে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের পক্ষ থেকে।
পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা বলছেন, হঠাৎ করেই জ্বালানির দাম বাড়লেও ভাড়া সমন্বয় করা হয়নি। আর লোকসান দিয়ে গাড়ি চালানো সম্ভব নয়, ভাড়া না বাড়ানো পর্যন্ত সারাদেশে যানবাহন চলবে না। এদিকে ভাড়া পুনর্নির্ধারণের বিষয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে (বিআরটিএ) পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের বসার কথা থাকলেও সেই বৈঠক পিছিয়ে গেছে রবিবার পর্যন্ত।
এই ধর্মঘটে ঢাকার রাজপথ থেকে আজ উধাও হয়ে গেছে বাস। শুক্রবার ছুটির দিনেও বিভিন্ন প্রয়োজনে রাস্তায় নেমে যাত্রীরা পড়ছেন চরম ভোগান্তিতে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন সাত কলেজের ভর্তি পরীক্ষা এবং দুই ডজন সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ পরীক্ষার জন্য বাসা থেকে বেরিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেন্দ্রে পৌঁছাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে পরীক্ষার্থীদের।
এই সুযোগে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল, অটোরিকশা এবং রিকশার ভাড়া দ্বিগুণ বেড়ে গেছে।
ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, সরকারি কবি নজরুল কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, মিরপুর বাঙলা কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজে সকাল ১০টা থেকে ১১টা বাণিজ্য ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা হওয়ার কথা। মোট ২৩ হাজার ৭০০ জন শিক্ষার্থী এই ইউনিটের পরীক্ষায় অংশ নিতে আবেদন করেছেন।
আগামী রোববার বিআরটিএর সাথে পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংঘের অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকের আগে যদি এর কোনো সুরাহা না হয়, আর ঘোষণা অনুযায়ী বাস ও পণ্যবাহী পরিবহন যদি বন্ধ থাকে, যাত্রী ভোগান্তির পাশাপাশি সরবরাহ সঙ্কটে নিত্যপণ্যের বাজারেও এর মারাত্মক প্রভাব পড়বে, জনভোগান্তি পৌঁছবে চরমে।


