পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : পাকিস্তানে লাহোরের বিখ্যাত দরবার সুফি মাজারের বাইরে বিস্ফোরণে অন্তত ৮জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় বহু হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাকিস্তানের গণমাধ্যম জিও নিউজের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা বিবিসি এই তথ্য জানিয়েছে। জিও নিউজ বলছে, একটি পুলিশের গাড়িকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়।
এই বিস্ফোরণে কয়েকজন পুলিশসহ অনেক সাধারন মানুষও আহত হয়েছেন। লাহোর সিটি পুলিশ প্রধান সৈয়দ গজনফর শাহ জানিয়েছেন, ‘মাজারের সামনে প্রহরায় থাকা নিরাপত্তা বাহিনীর একটি দলকে লক্ষ্য করেই বুধবার স্থানীয় সময় সকাল পৌনে ৯টায় হামলাটি চালানো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।’
বিস্ফোরণের পরপরই দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে এলাকাটিতে জনসাধারণের প্রবেশ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে এবং ওই এলাকায় বর্তমানে নিরাপত্তা অভিযান চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সংস্থা হামলার দায় স্বীকার করেনি।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এই হামলার কঠোর সমালোচনা করেছেন এবং আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা দেওয়ার আহ্বান করেছেন।
দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে প্রাচীণতম মাজারের একটি লাহোরের দাতা দরবার সুফি মাজার। এর বাইরেই বিস্ফোরণ ঘটে। মাজারটি পাকিস্তানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর লাহোরের প্রাচীন এলাকা ওয়ালেদ সিটিতে অবস্থিত। প্রতিদিনি শিয়া ও সুন্নী সম্প্রদায়ের হাজারো মানুষ এই মাজারে আসেন।
উল্লেখ, ইসলাম ধর্মে সুন্নি এবং শিয়া উভয় মতাবলম্বীদের মধ্যেই সুফিবাদের জনপ্রিয়তা রয়েছে। পাকিস্তানে এর আগেও সুফিবাদে বিশ্বাসীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। ২০১০ সালে দাতা দরবার মাজারের বাইরে দু’টি আত্মঘাতী হামলায় অনেকের মৃত্যু হয়। ২০১৪ সালে পেশোয়ারের স্কুলে বোমা হামলায় ১৪১ জন মারা যায় এবং ২০১৬ সালে ইস্টার সানডেতে লাহোরের খ্রিস্টানদের ওপর হওয়া হামলায় অন্তত ৭২ জন নিহত হয়। এর পর পাকিস্তান জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায় এবং কঠোর হওয়ার চেষ্টা চালায়। কিন্তু এরপরও দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও এখনো পাকিস্তানে জঙ্গীবাদের আশঙ্কা রয়েই গেছে।


