প্রত্যাশার বাজেট, লক্ষ্যমাত্রা পূরণের আশাবাদ
মাসউদুল কাদির :: করোনাকালে স্বল্পসময়ের জন্য বসেছিল সংসদ অধিবেশন। জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ঋণ আর রাজস্ব আদায়ে বড় চ্যালেঞ্জ নিতে হবে বলেই ধারণা করছেন বিশ্লেষকগণ। কিন্তু এ বাজেটে বিপুল পরিমাণ যে বাজেটের ঘোষণা এসেছে তা পূরণের জন্য ঋণের উপর নির্ভর করতে হবে।
করোনা ভাইরাসের মতো মহামারীর মধ্যে থমকে যাওয়া অর্থনীতির চাকা পুরোপুরি সচল করার মত পরিস্থিতি কবে হবে সেই নিশ্চয়তা নেই আমাদেরর সামনে। তবু সাহসিকতা দেখিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। আগের বারের মতো ৮ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির বড় লক্ষ্য ধরে নতুন অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে বাংলাদেশ যে বিরাট সাফল্য দেখাচ্ছে তা গত কবছরের অর্থনীতির অপ্রতিরোধ্য অগ্রগতি দেখেই সহজে অনুমেয়।
আশার কথা ওঠে এসেছে আন্তর্জাতিক ম্যাগাজিন দ্যা ইকোনমিস্ট প্রকাশিত ‘দ্যা ওয়ার্ল্ড ইন ২০২০’ এর বিশেষ সংখ্যায়। জিডিপি প্রবৃদ্ধির দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা শীর্ষ দশটি দেশের তালিকায় বাংলাদেশ তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হালনাগাদের সর্বশেষ প্রতিবেদন বিশ্লেষণে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদসংস্থা ব্লুমবার্গ বলছে ২০১৯ সালে বিশ্ব জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রায় ৮৬ শতাংশ এসেছে যে ২০টি দেশ থেকে, তার মধ্যে বাংলাদেশ একটি।
আমরা জানি, মহামারীর মধ্যে দুই মাসের লকডাউন আর বিশ্ব বাজারের স্থবিরতায় তা বড় ধাক্কা খেয়েছে। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেছেন, আমরা পুরোপুরি আত্মপ্রত্যয়ী ছিলাম যে এ বছর আমাদের অর্থনীতিতে সেরা প্রবৃদ্ধিটি উপহার দিতে পারব। আমাদের ইপ্সিত লক্ষ্যমাত্রাটি ছিল ৮ দশমিক ২ থেকে ৮ দশমিক ৩ ভাগ। কিন্তু করোনার প্রভাব সারাবিশ্বের অর্থনীতির হিসাব-নিকাশকে সম্পূর্ণভাবে ওলটপালট করে দিয়েছে।
দেশকে সঠিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারলে ঋণ নয় রেমিট্যান্স প্রাপ্তির মাধ্যমে সত্যিকার উন্নয়ন সম্ভব। বিশ্ব ব্যাংক পূর্বাভাস দিয়েছে, আগামী বছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হতে পারে ১ শতাংশ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-আইএমএফ বলেছে, আগামী বছর তা ৫ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে। অর্থমন্ত্রী যে বাজেট উপস্থাপন করেছে তা নিশ্চিতরূপেই বলা যায় বড় চ্যালেঞ্জ। চ্যালেঞ্জ এখন বাস্তবায়ন করাই হবে লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বড় আশাবাদ। দুর্নীতি বন্ধসহ অর্থপাচার রুখতে পারলে জিডিপির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব।


