প্রধানমন্ত্রীকে শুকরিয়া জানানো হবে ৪ নভেম্বর

প্রধানমন্ত্রীকে শুকরিয়া জানানো হবে ৪ নভেম্বর

পাথেয় রিপোর্ট : একদিন এগিয়ে আগামী ৪ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শোকরিয়া আদায় মাহফিল করবে আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কাওমিয়া। সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দেবে সম্মিলিত কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড হাইয়াতুল উলইয়া। জাতীয় সংসদে কওমি মাদরাসা বিল পাস অবদানে শুকরিয়া মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এ সংবর্ধনা দেয়া হবে। এর আগে ৫ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে এই অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। একদিন এগিয়ে এনে তা এখন ৪ নভেম্বর করা হয়েছে।

শনিবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ১০ টা থেকে কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাক অফিসে মাওলানা আশরাফ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতুল কাওমিয়ার বৈঠকে ৪ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনার এ সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়েছে।

এছাড়াও বৈঠকে তারিখ পরিবর্তন ছাড়া আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়েছে। আগামী ৩০ অক্টোবর ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী মাদরাসাসমুহের মুহতামিমদের নিয়ে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে ঢাকার মতিঝিলের পীরজঙ্গি মাদরাসায়। সেখানে অনুষ্ঠানের সার্বিক বিষয়সহ শুকরিয়া মাহফিলের কর্মপন্থা নির্ধারণ করা হবে।

হাইআতুল উলইয়ার জরুরি এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আল্লামা আশরাফ আলী, মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, মাওলানা আবদুল হামিদ, মাওলানা সাজিদুর রহমান, মাওলানা নূরুল হুদা ফয়েজী, মাওলানা যোবায়ের আহমদ চৌধুরী, মুফতি রুহুল আমিন, মাওলানা নূরুল ইসলাম, মাওলানা বাহাউদ্দিন যাকারিয়া, মাওলানা আবদুল কুদ্দুস, মাওলানা ইয়াহইয়া মাহমুদ, মুফতি মুহাম্মদ আলী, মাওলানা মাহফুজুল হক, মুফতি নূরুল আমিন, মাওলানা আরশাদ রাহমানী, মাওলানা ওয়াসিউর রহমান, মাওলানা সফিউল্লাহ, মাওলানা আবু তাহের নদভী, মাওলানা ওবায়দুর রহমান মাহবুব, মাওলানা মুশকাত আহমদ, মাওলানা ইউনুস, মাওলানা আনোয়ার হোসাইন, মাওলানা আবদুল খালেক প্রমুখ।

এর আাগে ১ অক্টোবর রোববার বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়্যা, কাজলা ভাঙ্গা প্রেস অফিসে হাইয়াতুল উলইয়ার এক বিশেষ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। পরে গত ২২ অক্টোবর গণভবনের আল্লামা আহমদ শফীর নেতৃত্বে আলেমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে সাক্ষাৎ করলে আলোচনার মাধ্যমে ৫ নভেম্বর চূড়ান্ত হয় শুকরিয়া মাহফিলের।

সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনার বিষয়ে আমন্ত্রণ জানালে তিনি খুব বিনয়ের সঙ্গে বলেন, সংবর্ধনার বিষয়টি শুনে আমার খুব লজ্জা লাগছে। আমি বাহবা বা সুনামের জন্য এ কাজ করিনি। একমাত্র আল্লাহকে খুশি করার জন্যই আমি কওিম স্বীকৃিত দিয়েছি। এ জন্য আমি সংবর্ধনার আশা করিনি। আমি আপনাদের ওয়াদা দিয়েছিলাম, সেই ওয়াদা রক্ষা করেছি অামি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আপনারা জানেন আমার বাবা ইসলামের জন্য কতোটা নিবেদিত প্রাণ ছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কাকরাইল মসজিদের জায়গা, ইজতেমা মাঠের জায়গা বরাদ্দ করেছেন। তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশন স্থাপনসহ সবরকম ধর্মীয় কাজ করেছেন পরকালের জন্য। তিনি এ দেশের আলেম-উলামাদের অত্যাধিক ভালোবাসতেন। তাদের শ্রদ্ধা করতেন। তাদের কথা ভাবতেন। আমিও দেশের কওমি মাদরাসার ছাত্র শিক্ষকদের কথা চিন্তা করে স্বীকৃতি দিয়েছি। এখানে আমার প্রাপ্তির কেনাও আশা নেই।

জানা যায়, ৪ নভেম্বর রাতে আসন্ন জাতীয় একাদশ নির্বাচন উপলক্ষে আগামী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে পারেন নির্বাচন কমিশন। তফসিলের পর সোহরাওয়ার্দীতে এ ধরনের অনুষ্ঠান নানা সমস্যার মুখে পড়তে পারে বলে তারিখ একদিন এগিয়ে আনা হয়েছে বলে বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *