পাথেয় রিপোর্ট : প্রয়োজন ছাড়া প্রসূতির সিজার কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেছেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে এই রিট দায়ের করা হয়েছে এবং রিটে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিএমডিসিসহ সংশ্লিষ্টদেরকে বিবাদী করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চে রিট আবেদনটি উপস্থাপন করা হবে।
রিট শেষে আবেদনকারী ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন সাংবাদিকদের বলেন, ‘সম্প্রতি প্রকাশিত আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেনের এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন রিট আবেদনে সংযুক্ত করা হয়েছে।’
আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে গত দুই বছরে শিশু জন্মের ক্ষেত্রে সিজারিয়ানের হার বেড়েছে ৫১ শতাংশ। এতে বাবা-মায়েদের সন্তান জন্মদানে ব্যাপক পরিমাণে খরচের ভার বহন করতে হচ্ছে। তাই প্রয়োজন ছাড়া সিজারিয়ানের স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও অর্থখরচ দুটি বিষয়েই প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে এই রিট আবেদনে।’
সেভ দ্য চিলড্রেন জানায়, ২০১৮ সালে যত সিজারিয়ান হয়েছে, তার ৭৭ শতাংশই চিকিৎসাগতভাবে অপ্রয়োজনীয় ছিল। তা ছাড়া এতে মা ও শিশু উভয়কেই অস্ত্রোপচার ঝুঁকিতে পড়তে হয়। শিশু জন্মের অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের ফলে ইনফেকশন ও মাত্রাতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, অঙ্গহানি, জমাট রক্ত ইত্যাদির কারণে মায়েদের সুস্থতা ফিরে পেতে প্রাকৃতিক প্রসবের তুলনায় অনেক দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হয়।
সেভ দ্য চিলড্রেন এমন অপ্রয়োজনীয় প্রসবকালীন অস্ত্রোপচার ঠেকাতে চিকিৎসকদের ওপর নজরদারির পরামর্শ দিয়েছে। এ প্রবণতার জন্য সংস্থাটি আংশিকভাবে বাংলাদেশের চিকিৎসাসেবা খাতের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করছে।
সংস্থাটি বলছে, কিছু অসাধু চিকিৎসক এর জন্য দায়ী, যাদের কাছে সিজারিয়ান একটি লাভজনক ব্যবসা।


