ফিলিস্তিন মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম চলবে : দেশে ফিরে শহিদুল আলম

ফিলিস্তিন মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম চলবে : দেশে ফিরে শহিদুল আলম

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বিশিষ্ট আলোকচিত্রী ও মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলম বলেছেন, আমাদের আসল সংগ্রাম এখনো বাকি আছে। ফিলিস্তিন মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম চলবে। আমরা ফেরার আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আবার আমরা যাব এবং হাজারটা জাহাজ যাবে।

ইসরাইলের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে দেশে ফিরে বিকেলে দৃক পাঠ ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। গতকাল শনিবার ভোর ৫টার দিকে শহিদুল আলমকে বহনকারী বিমান হজরত শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

ইসরাইলের কারাগারের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে শহিদুল আলম বলেন, গাজাগামী নৌবহর ফ্রিডম ফ্লোটিলার একটি জাহাজ থেকে ইসরাইলি বাহিনী আটক করার পর অনেক রকম নির্যাতনের মধ্যে মানসিক নির্যাতন বেশি করা হয়েছে। গভীর রাতে ইসরাইলি সেনারা মেশিনগান নিয়ে কারাগারের সেলে ঢুকে আতঙ্ক সৃষ্টি করতো। তিনি আরো বলেন, কারাগারে তারা অনশন করেছিলেন। কোনো খাবার খাননি। তবে শারীরিক দুর্বলতার কারণে কয়েকজন খাবার খেয়েছেন। আড়াই দিনে তাদের মাত্র এক প্লেট খাবার দেয়া হয়। তাদের যেখানে শুতে দেয়া হয়েছিল, তা ছিল লোহার, শৌচাগারগুলোর অবস্থাও ছিল শোচনীয়। তারা জোরে আওয়াজ করত, চিৎকার করে দাঁড়ানো বা অন্য আদেশ দিতো এবং আতঙ্ক তৈরি করার চেষ্টা করত।

বুধবার গাজাগামী নৌবহর ফ্রিডম ফ্লোটিলার জাহাজগুলো দখল করে নেয় ইসরাইলি বাহিনী। ওই বহরে ‘কনশানস’ নামের একটি জাহাজে ছিলেন শহিদুল আলম। পরে অন্যদের সাথে শহিদুল আলমকেও বন্দী করে ইসরাইলি বাহিনী। শুক্রবার সেখান থেকে ছাড়া পেয়ে তুরস্ক হয়ে সরাসরি ঢাকায় আসেন তিনি।

শহিদুল আলম বলেন, ‘আমরা যখন জাহাজ থেকে নামি, তখন হাত পেছনে নিয়ে বেঁধে যেখানে হাঁটু মুড়ে বসানো হয়েছিল। আমার জন্য বেশ কষ্টকর ছিল। প্রায় দুই ঘণ্টা এভাবে উবু হয়ে বসেছিলাম। আমার সবচেয়ে খারাপ লেগেছে তারা আমার পাসপোর্ট নিয়ে মাটিতে ফেলে দিয়েছিল। এটা আমার জন্য বড় আঘাত ছিল।’

দৃকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাকে গাজার উদ্দেশে যাত্রার পরিকল্পনা করতে সাহস জুগিয়েছে। সে সময় রাস্তায় নেমেছি, আন্দোলন করেছি। এ রকম একজন স্বৈরাচারকেও আমরা হঠাতে পেরেছি। এখানেও সেই জিনিস, আন্তর্জাতিকভাবে সেরকম একটা জিনিস করা দরকার।’

পরবর্তী পরিকল্পনা জানতে চাইলে শহিদুল আলম বলেন, ‘অসাধারণ কিছু ব্যক্তি এক সাথে হওয়ার কারণে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, আমরা এখন আন্তর্জাতিকভাবে একটা নেটওয়ার্ক দাঁড় করাব। যেহেতু গ্লোবাল লিডাররা করবে না, আমরা অ্যাকটিভিস্টরা কীভাবে করতে পারি সেই লড়াইয়ের প্রস্তুতি আমরা নিয়েছি। একটা ‘ব্লু প্রিন্ট’ আমরা করে রেখেছি এবং আমরা ফেরার আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, আবার আমরা যাব এবং হাজারটা জাহাজ যাবে।’

জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ও কিউরেটর তানজিম ইবনে ওয়াহাবের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দৃকের পরিচালক ও লেখক রেহনুমা আহমেদ, মহাব্যবস্থাপক ও কিউরেটর এ এস এম রেজাউর রহমান, উপ-মহাব্যবস্থাপক মো: কামাল হোসেন।

২৮ সেপ্টেম্বর ইসরাইলের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছিলেন শহিদুল আলম। ৩০ সেপ্টেম্বর ইতালি থেকে ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন-এফএফসির উদ্যোগে ‘কনশানস’ জাহাজে চড়ে প্রায় ১০০ জনসহ গাজা অভিমুখে রওনা হন।

Related Articles