মোহাম্মদ ইয়াহইয়া শহিদ ● আত্মসমালোচনা মানে হলো নিজেদের অভ্যন্তরীণ দুর্বল বিষয়গুলো নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করা৷ একটা দল বা জাতি যতক্ষণ নিজের অভ্যন্তরীণ দুর্বল দিকগুলো নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে ঠিক না করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সে দল বা জাতি সফলতার শেখরে পৌঁছতে পারবে না৷ আত্মসমালোচনা একটা দলের জন্য মেডিসিনের কাজ করে। সুতরাং প্রত্যেক দলের জন্যই নিজেদের দুর্বল দিকগুলো নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করা দরকার।
এখন কথা হলো- আত্মসমালোচনার জন্য আমরা অনেকেই ফেসবুকের মতো উন্মুক্ত প্লাটফর্মকে বেছে নিয়েছি। ফেসবুকে আপনার পাঁচহাজার বন্ধু আরো দুই হাজার ফলোয়ার তো আর জমিয়তে উলামা বাংলাদেশ করে না! তাহলে সার্বজনীন পোস্টে আপনি জমিয়তে উলামার অভ্যন্তরীণ দলীয় দুর্বল দিকগুলোর যৌক্তিক অযৌক্তিক সমালোচনাকে কিভাবে আত্মসমালোচনা বলে চালাবেন?আপনার মন মতো কোনোকিছু না হলেই সার্বজনীন পোস্টে আপনার রাগ ঝেড়ে সেটাকে আত্মসমালোচনা বলে চালিয়ে দেবেন কেন? এটা কি আদৌ আত্মসমালোচনার কোনো পর্যায়ে পড়ে? আপনার বিবেক কি বলে?
সব দলের অভ্যন্তরীণ কিছু বিষয় থাকে। আমাদের জমিয়তে উলামা বাংলাদেশের বেলায়ও থাকতে পারে। তার মানে এই না যে এটাকে ফেসবুকে হাইলাইটস করে প্রচার করতে হবে৷ বিবেকবান, সচেতন মানুষ যখন এই কাজ করে তখন মানুষ কমেন্টে এসে বাহবাহ দিলেও এই মানুষের প্রতি সবার আস্তা বিশ্বাস দিন দিন চলে যায়। সবাই ভাবে যে নিজের ঘরের খবর এভাবে অন্যের কাছে প্রকাশ করতে পারে তার উপর কতটুকু আস্তা রাখা যায় যে আমার খবর অন্যের কাছে প্রকাশ করবে না! আর এতে করে সবাই কমেন্টে তার সাথে সক্রিয় থাকলেও বাস্তব জীবনে তার সাথে কেউ মিশতে চায় না। কেউ তাকে বন্ধু বানায় না। এই হতাশা কাটিয়ে ওঠা অনেকের পক্ষে আর সম্ভব হয় না, সুতরাং নিজের উপর মানুষের আস্তা ঠিকেয়ে রাখার জন্য হলেও এই জঘন্য কাজ থেকে আমাদের বিরত থাকা দরকার৷
জমিয়তে উলামা বাংলাদেশ এবং তার অঙ্গসংগঠনের সকলের নিকট আমাদের জমিয়তের আমির সাহেবের নির্দেশ, আত্মসমালোচনার নামে যেন আমরা কেউ এরকম জঘন্য কাজে লিপ্ত না হই। দলের কোনো অনিয়মের কথা ফেসবুকের মতো পাবলিক প্লাটফর্মে না লেখে দায়িত্বশীল কারো কাছে বলুন, যদি একান্ত কেউই সমাধান না করে দেন, তাহলে সরাসরি আমিরে জমিয়তের কাছে বলুন, যদি আপনি সত্যিকার অর্থেই জমিয়তে উলামা বাংলাদেশের শুভাকাঙ্খী হয়ে থাকেন৷ আর যদি তা না করে আপনার মনের উল্টো বা নিয়ম বহির্ভূত কোনোকিছু হলেই কারো সাথে যোগাযোগ না করে ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করেন, তাহলে আমরা কখনো আপনাকে জমিয়তে উলামা বা আমাদের শুভাকাঙ্খী ভাবতে পারব না। দয়া করে আপনার প্রতি আমাদের সরল বিশ্বাস আর ভালোবাসার জায়গাটা সব সময় উন্মুক্ত রাখবেন
আমি জমিয়তে আনসারের ক্ষুদ্র দায়িত্বশীল হিসাবে বলছি, যদি জমিয়তে আনসারের কারো কোনো অভিযোগ বা বুঝার কিছু থাকে, তাহলে যে কোনো সময় আমার সাথে সেটা বলতে পারেন, ইনশাআল্লাহ আমিরে জমিয়তের সাথে আলোচনা করেই সমাধান করার চেষ্টা করব৷
লেখক
আহবায়ক: জমিয়তে আনসার বাংলাদেশ সিলেট জেলা
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক : জমিয়তে আনসার বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটি
মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়


